ওয়াশিংটন: বিজ্ঞানীরা বিশ্বব্যাপী আবহাওয়ায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে সতর্ক করেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশান্ত মহাসাগরে একটি সম্ভাব্য ‘সুপার এল নিনো’ দ্রুত বিকশিত হচ্ছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, এই এল নিনো বিশ্বের আবহাওয়ার উপর কী প্রভাব ফেলবে তা বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতি এবং অস্থিতিশীল বায়ুপ্রবাহের উপর নির্ভর করবে। দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা ক্রান্তীয় প্রশান্ত মহাসাগর একটি বড় প্রাকৃতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে বাণিজ্যিক বাতাস (ট্রেড উইন্ড) দুর্বল বা শক্তিশালী হওয়ার কারণে এর গতি কম বা বেশি হতে পারে, যা এখনও নিশ্চিত নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাসাগরীয় ও বায়ুমণ্ডলীয় প্রশাসন (এনওএএ) অনুযায়ী জুলাই মাসের মধ্যে এল নিনো সক্রিয় হওয়ার প্রায় ৮০ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে।
নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের প্রধান অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ছে, যার ফলে পৃষ্ঠের নিচে অস্বাভাবিকভাবে উষ্ণ পানির বিশাল ভাণ্ডার জমা হয়েছে। বিভিন্ন আবহাওয়া সংস্থার অনুমান, এই বছরের শেষে প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ২.৫°সে বা তার বেশি বাড়তে পারে।
ইতিহাসে ১৮৭৭/৭৮ সালের পর মাত্র তিনবার তাপমাত্রা ২°সে-এর বেশি হয়েছে। যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া অফিসের দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাস বিভাগের প্রধান অ্যাডাম স্কেফের মতে, এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনো হতে পারে।
সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনোর বৈশিষ্ট্য হলো নিরক্ষীয় অঞ্চলে পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে প্রবাহিত বাণিজ্যিক বাতাস দুর্বল হয়ে পড়া। এই বাতাসগুলো অনিশ্চিত এবং হঠাৎ শক্তিশালী হলে এল নিনোর বিকাশ থেমেও যেতে পারে।
এনওএএ-এর মতে ২°সে বা তার বেশি পৌঁছানোর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সম্ভাবনা রয়েছে, যা একে ‘সুপার এল নিনো’ শ্রেণিতে ফেলতে পারে। এমন পরিস্থিতি গ্রীষ্মকালে সমুদ্র ও বায়ুমণ্ডলের পারস্পরিক ক্রিয়া আরও তীব্র হওয়ার কারণে আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
এর ফলে বায়ুচাপ, মেঘের ধরন এবং বায়ুপ্রবাহে পরিবর্তন আসে, যা বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ায় ব্যাপক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। এল নিনো সাধারণত ডিসেম্বরের দিকে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়, তবে এর প্রভাব দীর্ঘ সময় ধরে থাকতে পারে এবং বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়াতে পারে।
অতীতের অনেক অত্যধিক উষ্ণ বছর এল নিনোর প্রভাবের কারণেই হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এখন পুরনো ঐতিহাসিক তথ্য ব্যবহার করে সঠিক আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার আবহাওয়া ব্যুরোর জলবায়ুবিদ ফেলিসিটি গ্যাম্বল বলেন, প্রতিটি এল নিনো আলাদা হলেও বড় ঘটনাগুলো সাধারণত একটি নির্দিষ্ট ধাঁচ অনুসরণ করে। এর প্রভাব অ্যামাজন, ইন্দোনেশিয়া এবং অস্ট্রেলিয়ায় গুরুতর খরা, ভারতের মৌসুমী বৃষ্টিতে বাধা এবং ক্রান্তীয় অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের ধরণে বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা যেতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ান আবহাওয়া ব্যুরোর মতে, এই এল নিনো ২.৮°সে পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা একটি ঐতিহাসিক ও উদ্বেগজনক ঘটনা হতে পারে।










