কলকাতা: নির্বাচনী প্রচারে রাজ্যে এসে তৃণমূল কংগ্রেসকে উৎখাতের ডাক দিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন নরেন্দ্র মোদী। রবিবার বাঁকুড়ার সভা থেকে তিনি বলেন, “সব সিন্ডিকেট ও দুষ্কৃতীদের শেষবার বলছি, নিজেদের থানায় আত্মসমর্পণ করুন।” প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক।
এরই পাল্টা জবাব দিতে দেরি করেননি তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগরে অনুষ্ঠিত সভা থেকে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী এসে ধমকাচ্ছেন, বলছেন সবাইকে জেলে ঢুকিয়ে দেবেন। আমি তাঁকে বলব, আপনি শান্ত হন, মাথা ঠান্ডা রাখুন। এখন বুঝে গিয়েছেন, এসআইআর করেও কিছু হচ্ছে না।”
বাংলায় প্রচারে এসে বারবার ‘গুন্ডারাজ’ ও ‘মাফিয়ারাজ’-এর অভিযোগ তুলে তৃণমূলকে নিশানা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এর জবাবে অভিষেক কটাক্ষ করে বলেন, “এখন বুঝে গিয়েছেন, এসআইআর, হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও নির্বাচন কমিশন—সব কাজে লাগিয়েও কিছু করতে পারছেন না। বাংলার মানুষ বলে দিয়েছে, আবারও ক্ষমতায় ফিরবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।”
ভোট ঘোষণার পর থেকেই দলীয় প্রার্থী ও মুখ্যমন্ত্রীর সমর্থনে লাগাতার প্রচার চালাচ্ছেন অভিষেক। সেই ধারাবাহিকতায় রবিবার সাগর বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরার সমর্থনে বিশাল জনসভা করেন তিনি। সভায় হাজার হাজার কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে তিনি একদিকে রাজ্যের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরেন, অন্যদিকে কেন্দ্র ও ভারতীয় জনতা পার্টির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান।
বাংলার মানুষের উন্নয়নের কথা তুলে ধরে ভোট চাইছে বিরোধী শিবির। এই প্রসঙ্গে অভিষেক বলেন, “বাংলাকে যদি সত্যিই ভালোবাসেন, তবে বকেয়া টাকা মানুষের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দিন। ভোটের পরে নয়, এখনই মহিলাদের, যুবকদের ও মৎস্যজীবীদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠান।”
তিনি আরও জানান, যুবসাথী প্রকল্পে ইতিমধ্যেই বহু যুবক-যুবতী আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন। আদর্শ আচরণবিধি চলায় আপাতত নতুন করে অর্থ ছাড়া সম্ভব নয়, তবে ভোটের ফল ঘোষণার ১৫ দিনের মধ্যে বাকি সকলেই এই সুবিধা পাবেন বলে আশ্বাস দেন তিনি।
এছাড়াও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে অভিষেক বলেন, “সাগর বিধানসভায় প্রায় ১ লক্ষ ৬০ হাজার মহিলা প্রতি মাসে এই সুবিধা পাচ্ছেন। সাধারণ মহিলারা মাসে ১৫০০ টাকা এবং তপশিলি মহিলারা ১৭০০ টাকা পাচ্ছেন।” তিনি দাবি করেন, আগামী দিনে ফের তৃণমূল সরকার গঠিত হলে মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আরও বড় অঙ্কের আর্থিক সহায়তা পৌঁছবে।
রাজ্যের রাজনৈতিক ময়দানে এই পাল্টাপাল্টি আক্রমণ ঘিরে উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে।










