গরু কোরবানি এড়াতে মুসলিমদের আহ্বান
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনের পর কলকাতার বিখ্যাত নাখোদা মসজিদের ইমাম মাওলানা মোহাম্মদ শফিক কাসিমি-এর বক্তব্যে পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। নতুন সরকার গঠনের পর তিনি মুসলিম সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, মুসলিমদের উচিত হিন্দু ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান জানিয়ে গরুর কোরবানি থেকে সম্পূর্ণভাবে বিরত থাকা। তিনি আরও বলেন, ভারত একটি বহু-সংস্কৃতির দেশ এবং এখানে সকল ধর্মের মানুষের অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখানো সকলের দায়িত্ব।
ইমাম কাসিমি পরামর্শ দেন যে গরুর পরিবর্তে ছাগলের কোরবানি দেওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি তিনি মসজিদগুলিকে নির্দিষ্ট শব্দসীমার মধ্যে লাউডস্পিকার ব্যবহারের আহ্বান জানান এবং প্রশাসনের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করার কথা বলেন।
তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে পশু কোরবানি ও জবাই সংক্রান্ত সম্প্রতি জারি করা নতুন সরকারি নিয়মের প্রেক্ষিতেই এই মন্তব্য এসেছে। নতুন বিধি অনুযায়ী, কোনো পশু জবাই বা কোরবানি করার আগে ‘ফিটনেস সার্টিফিকেট’ থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
নিয়মে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র ১৪ বছরের বেশি বয়সী বা অসুস্থ, আহত কিংবা অক্ষম পশুর ক্ষেত্রেই জবাইয়ের অনুমতি দেওয়া হবে, এবং তা সরকারি পশুচিকিৎসকের অনুমোদনের পরই কার্যকর হবে।
এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইমাম কাসিমি বলেন, এই আইন ১৯৫০ সাল থেকেই রয়েছে, তবে পূর্ববর্তী সরকারগুলি এটি পুরোপুরি কার্যকর করেনি।
তিনি আরও বলেন, পর্যাপ্ত বৈধ স্লটারহাউস এবং চিকিৎসকের ব্যবস্থা না থাকলে সাধারণ মানুষের জন্য এই নিয়ম মানা কঠিন হয়ে পড়ে। পাশাপাশি তিনি প্রস্তাব দেন যে সরকার যদি এমন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে না পারে, তবে গরুকে জাতীয় পশু ঘোষণা করে দেশজুড়ে গরু জবাই ও মাংস রপ্তানিতে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত।










