‎পশ্চিমবঙ্গের শিল্প পুনরুজ্জীবনে নীতি আয়োগের বড় উদ্যোগ

Premanand-Maharaj-13-2024-07-bbb7bdcb30598ff192ca517a76c443fc-3x2 (1)

ডা. অশোক লাহিড়ীর হাতে দায়িত্ব

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতি ও মন্থর হয়ে পড়া শিল্পোন্নয়নকে নতুন গতি দিতে কেন্দ্রীয় সরকার একটি বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। নীতি আয়োগ এখন রাজ্যের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি শিল্প কৌশল প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে। এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নীতি আয়োগের নবনিযুক্ত উপাধ্যক্ষ ডা. অশোক লাহিড়ী-কে। তাঁর নেতৃত্বে ইতিমধ্যেই কর্মপরিকল্পনা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।
‎এই বিশেষ কৌশলের মূল লক্ষ্য হল পশ্চিমবঙ্গে উৎপাদনশিল্প, সরবরাহ ব্যবস্থা, পরিকাঠামো, নদীকেন্দ্রিক বাণিজ্য এবং কর্মসংস্থানের সুযোগকে ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণ করা। পাশাপাশি, কলকাতাকে ভারতের ‘পূর্বমুখী নীতি’র প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।
‎স্বাধীনতার সময় পশ্চিমবঙ্গ দেশের অন্যতম সমৃদ্ধ রাজ্য ছিল এবং মোট দেশজ উৎপাদনের নিরিখে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করত। কিন্তু গত কয়েক দশকে শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া, রাজনৈতিক অস্থিরতা, উগ্র শ্রমিক সংগঠনের ভূমিকা এবং ত্রুটিপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে রাজ্যটি পিছিয়ে পড়ে বর্তমানে ষষ্ঠ স্থানে নেমে এসেছে।
‎বর্তমানে সল্টলেক ও নিউটাউনের মতো এলাকাগুলি তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে কিছু আশার আলো দেখালেও বৃহৎ শিল্পের বিস্তার এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। এর ফলেই বহু তরুণ-তরুণী কর্মসংস্থানের খোঁজে বেঙ্গালুরু ও হায়দরাবাদের মতো শহরে পাড়ি দিচ্ছেন।
‎এই পরিস্থিতি বদলাতে নতুন পরিকল্পনার অধীনে চারটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। প্রথমত, যোগাযোগ ও পণ্য পরিবহণ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা হবে। পশ্চিমবঙ্গের ভৌগোলিক অবস্থান তাকে বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এই সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে কলকাতা ও হলদিয়া বন্দরের উন্নয়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
‎দ্বিতীয়ত, প্রকৌশল, রাসায়নিক, বস্ত্র ও বৈদ্যুতিন উৎপাদন শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে পূর্ব ভারতের খনিজসমৃদ্ধ অঞ্চলগুলিকে সংযুক্ত করে অর্ধপরিবাহী শিল্প করিডর গড়ে তোলার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
‎তৃতীয়ত, কয়লা ও লৌহ আকরিকের প্রাচুর্য এবং বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত সহজ পৌঁছনোর সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে জ্বালানি ও প্রাকৃতিক সম্পদভিত্তিক শিল্পের উন্নয়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
‎সবশেষে, কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে সেই সমস্ত পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে, যারা কাজের সন্ধানে রাজ্য ছেড়েছেন অথবা ছাড়ার কথা ভাবছেন।
‎অর্থনীতিবিদদের মতে, নীতি আয়োগের এই উদ্যোগে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়লেও জমি অধিগ্রহণ, দুর্বল শিল্প পরিকাঠামো এবং প্রশাসনিক জটিলতা এখনও বড় বাধা হয়ে রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গকে পুনরায় একটি শিল্পশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলেও, এর প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে পরিকল্পনাগুলি কত দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয় তার উপর।

About Author

Advertisement