কাঠমান্ডু:
নেপালের একমাত্র বিলিয়নিয়ার বিনোদ চৌধুরী রাজনীতিতেও নিজের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছেন। নেপালি কংগ্রেসের ১৫তম মহাধিবেশনে তিনি দলের অন্যতম সহসভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর সঙ্গে মধু আচার্য ও চন্দ্র ভাণ্ডারীও সহসভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন।
ফোর্বস পত্রিকার বিলিয়নিয়ারদের তালিকায় থাকা একমাত্র নেপালি হলেন বিনোদ চৌধুরী। নেপালি কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, তিনি অন্তর্ভুক্তিমূলক কোটায় ১,৭৪৫ ভোট পেয়ে এই পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জীবন পরিয়ার পেয়েছেন ১,৬৫৮ ভোট।
ভারতসহ বহু দেশে ব্যবসা
ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, চৌধুরীর জনপ্রিয় ইনস্ট্যান্ট নুডলস ব্র্যান্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হোটেল ও আতিথেয়তা ব্যবসায় নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তাঁর ব্যবসা শুধু নেপালেই সীমাবদ্ধ নয়। ভারতসহ বিভিন্ন দেশে তাঁর সংস্থাগুলির উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে।
এর মধ্যে নেপালের একটি ব্যাংক এবং ভারতের তাজ হোটেল চেইনের সঙ্গে যুক্ত বেশ কয়েকটি বিলাসবহুল হোটেলও রয়েছে। তিনি সিজি কর্প গ্লোবাল গ্রুপে নিয়ন্ত্রণকারী অংশীদারিত্বের মালিক। এই গোষ্ঠীর ইতিহাস প্রায় ১৪০ বছরের পুরোনো। তাঁকে নেপালের ‘আম্বানি’ বলেও অভিহিত করা হয়।
বিনোদ চৌধুরীর মোট সম্পত্তির পরিমাণ কত?
ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে তাঁর মোট সম্পত্তির পরিমাণ ছিল ১.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২৬ সালে তা বেড়ে ২.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। তবে কোভিড-১৯ মহামারির সময় ২০২০ ও ২০২১ সালে তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ কমে গিয়েছিল।
২০২৬ সালের ৫ মার্চ অনুষ্ঠিত সংসদীয় নির্বাচনে তিনি ক্ষমতাসীন রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা পার্টি (আরএসপি)-র প্রার্থীর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও, অন্যান্য বিরোধী নেতার মতো বিনোদ চৌধুরী নেপালি কংগ্রেসের অভ্যন্তরে নিজের অবস্থান আরও মজবুত করেছেন।
সহসভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর চৌধুরী তাঁকে ভোট দেওয়া মহাধিবেশন প্রতিনিধিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এর আগে তিনি বলেছিলেন, দেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরের নেতৃত্ব দিতে সক্ষম একটি দল হিসেবে নেপালি কংগ্রেসকে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যেই তিনি এই পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
নেপালের গণতান্ত্রিক পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের জন্য নেপালি কংগ্রেস ব্যাপকভাবে পরিচিত।





