কলকাতা: অপ্পো ইন্ডিয়া-এর জন্য পশ্চিমবঙ্গ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকাশমান বাজার হিসেবে উঠে এসেছে। ২০২৫ সালে সংস্থাটি এই অঞ্চলে প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি অর্জন করেছে, যা শক্তিশালী গ্রাহক চাহিদা ও অঞ্চলের বাড়তে থাকা কৌশলগত গুরুত্বকে নির্দেশ করে। বিশেষত তরুণ ও ডিজিটালভাবে সংযুক্ত গ্রাহকদের মধ্যে অভিজ্ঞতাভিত্তিক স্মার্টফোন ব্যবহারের প্রবণতা এই বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করেছে।
বর্তমানে অপ্পো ভারতবর্ষের শীর্ষ তিনটি স্মার্টফোন সংস্থার মধ্যে একটি, যার বাজার অংশীদারিত্ব ১৩.৩ শতাংশ এবং দেশজুড়ে এর ব্যবহারকারী সংখ্যা ১০ কোটিরও বেশি। পশ্চিমবঙ্গে সংস্থাটি তাদের অফলাইন উপস্থিতি জোরদার করেছে, যেখানে খুচরো স্পর্শবিন্দুতে ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে। এই নেটওয়ার্ককে সমর্থন করছে ২০টি পরিষেবা কেন্দ্র, এবং শীঘ্রই আরও ৮টি নতুন পরিষেবা কেন্দ্র চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
২০২৬ সালে অপ্পো রাজ্যজুড়ে প্রিমিয়াম খুচরো স্পর্শবিন্দুর সম্প্রসারণের পাশাপাশি তাদের পরিষেবা কেন্দ্র ৩.০ প্রো নেটওয়ার্ককে ১৬টি স্থানে বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে। এর প্রথম এবং বৃহত্তম পরিষেবা কেন্দ্রটি কলকাতায় স্থাপন করা হয়েছে। এই উদ্যোগগুলির লক্ষ্য গ্রাহকদের জন্য আরও সহজলভ্য, নির্ভরযোগ্য এবং উন্নত পরিষেবা অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করা।
শিল্প সংক্রান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের স্মার্টফোন বাজার বর্তমানে কাঠামোগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে প্রিমিয়াম ও মধ্য-প্রিমিয়াম অংশে শক্তিশালী দ্বি-অঙ্কের বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কলকাতায় অপ্পোর রেনো এবং ফাইন্ড এক্স সিরিজ বিশেষ সাড়া পেয়েছে। রেনো ১৫ সিরিজ রেনো ১৩ সিরিজের তুলনায় ১.৫৩ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং ফাইন্ড এক্স ৯ সিরিজ ফাইন্ড এক্স ৮ সিরিজের তুলনায় ৩.৩ গুণ বৃদ্ধি অর্জন করেছে। পাশাপাশি এ, কে এবং এফ সিরিজের চাহিদাও স্থিতিশীল রয়েছে।
এই প্রবণতা এখন আর শুধু মহানগর শহরে সীমাবদ্ধ নয়, পশ্চিমবঙ্গের মতো প্রযুক্তি-সচেতন বাজারেও তা দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। এখানে স্মার্টফোন দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে—কনটেন্ট নির্মাণ, যোগাযোগ, ডিজিটাল লেনদেন, বিনোদন কিংবা উৎপাদনশীলতা—সব ক্ষেত্রেই এর ব্যবহার বাড়ছে। ফলে শক্তিশালী, সহজ ব্যবহারযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য ডিভাইসের চাহিদা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এই প্রসঙ্গে অপ্পো ইন্ডিয়ার যোগাযোগ প্রধান গোল্ডি পট্টনায়েক বলেন, “১০ শতাংশ বিক্রয় বৃদ্ধির সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ অপ্পোর জন্য শীর্ষ পাঁচ বাজারের মধ্যে একটি হিসেবে রয়ে গেছে। এটি প্রমাণ করে যে গ্রাহকরা এখন মূল্যভিত্তিক ও অভিজ্ঞতানির্ভর স্মার্টফোন দ্রুত গ্রহণ করছেন। আমাদের রেনো ও ফাইন্ড এক্স ৯ সিরিজ বিশেষ করে তরুণদের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য সাড়া পাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের মতো বাজার আমাদের গ্রাহকদের আচরণ ও প্রত্যাশা গভীরভাবে বোঝার সুযোগ দেয়, যা সরাসরি আমাদের উদ্ভাবনে—যেমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অভিজ্ঞতা, ক্যামেরা ব্যবস্থা এবং কলারওএস—প্রভাব ফেলে। আমরা ২০২৬ সালের মধ্যে ১৫টিরও বেশি নতুন পণ্য উন্মোচন এবং প্রিমিয়াম খুচরো ও পরিষেবা নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
অপ্পোর পণ্য পরিসর—এ, কে এবং এফ সিরিজ থেকে শুরু করে রেনো ও ফাইন্ড এক্স সিরিজ পর্যন্ত—প্রত্যেক মূল্য স্তরে উন্নত অভিজ্ঞতা প্রদানের লক্ষ্যে তৈরি। সংস্থাটি চিত্রগ্রহণ প্রযুক্তিতেও ধারাবাহিক উদ্ভাবন করছে, যার মধ্যে রয়েছে উন্নত চিত্র ইঞ্জিন, ২০০ মেগাপিক্সেল টেলিফটো ক্যামেরা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর বৈশিষ্ট্য এবং কলারওএস-এর মাধ্যমে সিস্টেম স্তরের উন্নতি।
অপ্পোর পরিষেবা নেটওয়ার্ক দেশের ৫০০টিরও বেশি শহরে বিস্তৃত ৫৭০টিরও বেশি পরিষেবা কেন্দ্র নিয়ে গড়ে উঠেছে। পশ্চিমবঙ্গে উন্নত পরিষেবা কেন্দ্র ৩.০ প্রো নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরিষেবার মান আরও উন্নত করা হচ্ছে। কলকাতায় প্রায় ৯০ শতাংশ পরিষেবা সমস্যার সমাধান এক ঘণ্টার মধ্যেই করা হয়। এছাড়াও বাংলা সহ নয়টি ভাষায় বহুভাষিক সহায়তা পরিষেবা চালু রয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাজারকে কেন্দ্র করে অপ্পো উদ্ভাবন, সহজলভ্যতা এবং উন্নত পরিষেবাকে একত্রিত করে গ্রাহকদের জন্য আরও উন্নত অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করার পথে এগিয়ে চলেছে।









