ইউপিআই পেমেন্টের ওপর ‘এমডিআর’ চার্জ আরোপের পথ প্রশস্ত
নয়াদিল্লি: রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ‘ট্যাক্সেশন অ্যান্ড আদার লজ (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৪’ এবং ‘পেমেন্ট অ্যান্ড সেটলমেন্ট সিস্টেমস অ্যাক্ট, ২০০৭’-এ আনা সংশোধনীগুলোতে সম্মতি দিয়েছেন। গত ১০ আগস্ট ভারতীয় সংসদে পাস হওয়া দুটি বিলে রাষ্ট্রপতির সম্মতির ফলে সেগুলোকে আইন হিসেবে কার্যকর করার পথ সুগম হয়েছে।
‘পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেমস অ্যাক্ট’-এর এই সংশোধনী সরকারকে ইউপিআই এবং রুপে কার্ডের মাধ্যমে হওয়া লেনদেনের ক্ষেত্রে ‘মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট’ (এমডিআর) বা মাশুল নির্ধারণের আইনি ক্ষমতা প্রদান করে। সরকার এখন এমন একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করতে পারবে যেখানে উল্লেখ থাকবে যে, কোন কোন ইলেকট্রনিক পেমেন্ট পদ্ধতি বা লেনদেনকে মাশুল বা চার্জ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে।
এতদিন পর্যন্ত, ইউপিআই এবং রুপে ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে করা পেমেন্টের জন্য ব্যাংক ও পেমেন্ট পরিষেবা প্রদানকারীরা গ্রাহকদের ওপর কোনো চার্জ আরোপ করতে পারত না। এই নতুন আইনি কাঠামোর আওতায়, ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া-র নেতৃত্বাধীন ‘ইউপিআই অ্যান্ড সার্ভিস অপারেশনস কমিটি’ এমডিআর চার্জ সংক্রান্ত বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য ইউপিআই পরিষেবা বিনামূল্যে থাকবে; শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু মার্চেন্ট লেনদেনের ক্ষেত্রে মাশুল বা চার্জ প্রযোজ্য হবে।
বিলটি নিয়ে আলোচনার সময় ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন স্পষ্ট করেছেন যে, সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য ইউপিআই পেমেন্ট সম্পূর্ণ বিনামূল্যে থাকবে। ভবিষ্যতে যে এমডিআর চার্জ কার্যকর করা হবে, তা কেবল নির্দিষ্ট কিছু ক্যাটাগরির মার্চেন্ট লেনদেনের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে।
অন্যদিকে, ‘ট্যাক্সেশন অ্যান্ড আদার লজ (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট’-এর মূল উদ্দেশ্য হলো বিদেশি পুঁজি আকর্ষণ করা, দেশে ইলেকট্রনিক্স পণ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করা এবং বিদেশি ক্লাউড কোম্পানিগুলোর জন্য ভারতীয় ডেটা সেন্টার ব্যবহারের বিষয়টি সহজতর করা।
এই নতুন আইনটি ৫ই জুন জারি করা অধ্যাদেশটিকে প্রতিস্থাপন করেছে। ওই অধ্যাদেশে সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগের মাধ্যমে ‘ফরেন পোর্টফোলিও ইনভেস্টর’ বা এফপিআই-দের অর্জিত সুদের আয় ও মূলধনী লাভের ওপর আয়কর ছাড়ের ব্যবস্থা ছিল।
নতুন আইনের আওতায়, ভারতে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, পার্সোনাল কম্পিউটার, ট্যাবলেট, সার্ভার এবং এগুলোর প্রধান যন্ত্রাংশ ও অনুষঙ্গ সামগ্রী চুক্তিভিত্তিক উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিদেশি কোম্পানিগুলোকে দেওয়া আয়কর ছাড়ের সময়সীমা ২০৪০-৪১ অর্থবছর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।









