তদন্তের স্বার্থে তৃণমূলের ১২ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ পুলিশের

IMG-20260710-WA0025

ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিয়ে ফের বড় সমস্যায় কালীঘাট তৃণমূল। সূত্রে খবর, তদন্তের স্বার্থে এবার আরও ১২টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করল পুলিশ। মূলত সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ তুলে ঋতব্রত শিবিরের এক তৃণমূল বিধায়ক পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। তাঁর সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই প্রথমে ৩টি এবং এবার নতুন করে আরও ১২টি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে।
পাশাপাশি রাজ্য পুলিশের সূত্রে এও জানা গিয়েছে, তদন্তের প্রয়োজনে নতুন করে এই ১২টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার জন্য সংশ্লিষ্ট বেসরকারি ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে আবেদন জানানো হয়েছিল। পুলিশের সেই আইনি আবেদনে সাড়া দিয়ে অ্যাকাউন্টগুলির লেনদেন স্তব্ধ করে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। ফলে সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত মোট ১৫টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করল পুলিশ। রাজ্য পুলিশের দাবি, এই ১৫টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সব মিলিয়ে ১,০০০ কোটি টাকারও বেশি অর্থ রয়েছে। নতুন করে ফ্রিজ করা ১২টি অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত তথ্য ও বিগত দিনের লেনদেনের খতিয়ান চেয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের কাছে নোটিস পাঠিয়েছে পুলিশ।
এর আগে পুলিশের নির্দেশে ফ্রিজ হওয়া প্রথম ৩টি অ্যাকাউন্টে প্রায় ৪৪০ কোটি টাকা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল কালীঘাট তৃণমূল। বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য নির্দেশ দেন, দল আপাতত দৈনন্দিন কাজের জন্য ওই ৩টি অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে পারবে। তবে তার ওপর আইনি নজরদারি বহাল করেছে আদালত।
অ্যাকাউন্টগুলির আয়-ব্যয়ের ওপর নজর রাখতে হাইকোর্ট অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সুব্রত তালুকদারকে ‘স্পেশাল অফিসার’ হিসেবে নিযুক্তও করে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্বে বহাল থাকবেন। অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনুমোদিত যে কোনও দু’জন স্বাক্ষরকারী সই করে টাকা তুলতে পারবেন। তবে প্রতিদিনের খরচপত্রের সমস্ত হিসাব স্পেশাল অফিসারকে জানাতে হবে এবং অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সুব্রত তালুকদার নিজে সেই খরচে ‘কাউন্টার সাইন’ করবেন।
হাইকোর্টের এই অন্তর্বর্তী স্বস্তির সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে ঋতব্রত শিবির। তাদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ৩টি অ্যাকাউন্ট আংশিক সচল করার এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে তারা সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করতে চলেছে।
অন্য দিকে, এই বিপুল অঙ্কের লেনদেনে অসঙ্গতি মেলায় মামলার জল গড়িয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দরবারেও। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, সন্দেহজনক লেনদেন এবং ‘কাটমানি’র বিপুল টাকা বেআইনিভাবে ব্যাঙ্কে গচ্ছিত রাখার প্রাথমিক হদিস পেয়েই এই মামলার তদন্তভার হাতে নিয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। ইতিমধ্যেই ইডির তরফে ওই তিনটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে এবং পুলিশের ফ্রিজ করা বাকি ১২টি অ্যাকাউন্টের ওপরও কেন্দ্রীয় এজেন্সির গোয়েন্দারা নজর রাখছেন।

About Author

Advertisement