ড্রোন হামলায় কেঁপে উঠল কুয়েত: মিনা আল-আহমাদি শোধনাগারে আগুন

153988056

দুবাই: ইরান শুক্রবার কুয়েতের মিনা আল-আহমাদি তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলা চালায়, যার ফলে সেখানে ভয়াবহ আগুন লাগে। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা কুয়েত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, দমকলকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সংস্থার মতে, এই ঘটনায় কেউ আহত হয়েছে বলে কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
কুয়েতে মোট তিনটি তেল শোধনাগার রয়েছে, যার মধ্যে মিনা আল-আহমাদি শোধনাগারটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত। যুদ্ধের সময় এই শোধনাগারটি একাধিকবার হামলার লক্ষ্য হয়েছে। এই শোধনাগারগুলো দেশের তেল উৎপাদনের মেরুদণ্ড, কারণ এগুলো ছাড়া তেলক্ষেত্র থেকে উত্তোলিত অপরিশোধিত তেলের প্রক্রিয়াকরণ ও রপ্তানি সম্ভব নয়। শোধনাগার বন্ধ হয়ে গেলে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং পুনরায় চালু করতে দীর্ঘ সময় লাগে।
লবণাক্ত জল মিষ্টিকরণ কেন্দ্রও হামলার লক্ষ্য:
কুয়েত জানিয়েছে, হামলার সময় একটি লবণাক্ত জল মিষ্টিকরণ কেন্দ্রের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যদিও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য এই ধরনের কেন্দ্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এগুলোর মাধ্যমে সমুদ্রের লবণাক্ত জলকে পানযোগ্য করা হয়।
কুয়েতে পানীয় জলের প্রায় ৯০ শতাংশ এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়। চলমান সংঘর্ষে এই মিষ্টিকরণ কেন্দ্রগুলো প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে। এর আগে ইরান একটি কেন্দ্রের ওপর হামলার জন্য আমেরিকা ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছিল, এরপর উপসাগরীয় দেশগুলোর কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা শুরু হয়।
হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরানের নতুন পদক্ষেপ:
এদিকে ইরান দাবি করেছে, তারা ওমানের সঙ্গে মিলিতভাবে হরমুজ প্রণালীর নজরদারির জন্য একটি প্রস্তাব প্রস্তুত করছে। সরকারি সংবাদ সংস্থার মতে, এই প্রস্তাবের উদ্দেশ্য হলো এই সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচলকে নিরাপদ ও সহজতর করা।
তবে অঞ্চলে জাহাজের ওপর হামলা এবং এই পথ ব্যবহার করতে বড় অঙ্কের অর্থ দাবি করার অভিযোগের কারণে পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ রয়েছে। প্রস্তাবের প্রকৃতি ও এর প্রভাব সম্পর্কে এখনও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে ওমানও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
এই প্রণালী ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী একটি আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ, যেখানে জাহাজের অবাধ চলাচল প্রত্যাশিত।
ইরানের কূটনীতিক কাজিম ঘারিবাবাদি বলেছেন, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নৌ চলাচলের ওপর গুরুতর প্রভাব পড়ছে এবং শান্তিকালীন নিয়ম এখানে প্রযোজ্য নয়।

About Author

Advertisement