নয়াদিল্লি: ফ্রান্সের এভিয়ঁ-এ অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের সময় একটি ভাইরাল ভিডিও এবং তার ওপর করা এক কূটনৈতিক মন্তব্যকে ঘিরে বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সম্মেলনের গ্রুপ ফটো তোলার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভুল দিকে হাঁটতে দেখা যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক প্রাক্তন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার কটাক্ষ বিষয়টিকে নতুন রাজনৈতিক মোড় দিয়েছে।
সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতারা গ্রুপ ফটোর জন্য একত্রিত হয়েছিলেন। ফটো সেশন শেষ হওয়ার পর দেখা যায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হঠাৎ করেই অন্য নেতাদের অবস্থানের বিপরীত দিকে এগিয়ে যান। কিছুটা সামনে এগিয়ে যাওয়ার পর তিনি যেন দিক ভুলে যান, তখন উপস্থিত অন্যান্য দেশের নেতা ও কূটনীতিকরা হাতের ইশারায় তাকে সঠিক জায়গায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্বজুড়ে নেটিজেনরা এ নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করেন।
এই ভিডিওটি শেয়ার করে ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রাক্তন লেফটেন্যান্ট জেনারেল ডি.পি. পান্ডে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স (টুইটার)-এ একটি ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট করেন, যা বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন তোলে। তিনি কটাক্ষ করে লেখেন, ট্রাম্প ভুল করে বা বিভ্রান্ত হয়ে অন্যদিকে যাননি, বরং তিনি ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মুখোমুখি হওয়া এড়াতে বা “পালিয়ে যেতে” চেয়েছিলেন। তাঁর মতে, অতীতে ট্রাম্পের কিছু বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে হয়তো মোদীর সঙ্গে সরাসরি দেখা করা তার জন্য অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছে।
এই পোস্ট দ্রুত হাজার হাজার বার শেয়ার হয় এবং অনলাইনে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দেয়।
ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটেছে যখন জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে প্রায় ১৬ মাস পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে সম্মেলনের সময় তাদের মধ্যে সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎও হয়েছে, যেখানে উভয় নেতা সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে হাত মেলান এবং কিছুক্ষণ কথা বলেন।
প্রাক্তন লেফটেন্যান্ট জেনারেল পান্ডের এই মন্তব্য নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকেই এটিকে রাজনৈতিক ব্যঙ্গ বা রসিকতা হিসেবে দেখছেন, আবার কিছু বিশ্লেষক এটিকে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বসহকারে ব্যাখ্যা করছেন। তবে ভিডিওটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ট্রাম্প ইচ্ছাকৃতভাবে কারও থেকে দূরে সরে যাচ্ছিলেন—এমন কোনও স্পষ্ট প্রমাণ নেই। কূটনৈতিক মহলে একে সাধারণ একটি মুহূর্তের বিভ্রান্তি হিসেবেই দেখা হচ্ছে, যা পরে সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যঙ্গের কারণে বড় রাজনৈতিক আলোচনায় পরিণত হয়েছে।










