জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে মমতা শিবিরের দাবি জোরালো, ফের কালীঘাট শিবিরকে ডাকল নির্বাচন কমিশন

182df6d3-3c7d-4a1b-bbfb-935bfdf55a27

কলকাতা : আসন্ন উপনির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ‘জোড়াফুল’ প্রতীক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কালীঘাট শিবিরের কাছেই থাকার সম্ভাবনা জোরালো হয়ে উঠেছে। নির্বাচন কমিশনের তরফে এখনও কোনও অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ জারি না হওয়ায় মমতা শিবিরের আত্মবিশ্বাস আরও বেড়েছে। এরই মধ্যে কালীঘাট শিবিরকে ফের শুনানির জন্য ডেকেছে নির্বাচন কমিশন।
তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রতীক এবং দলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ঋতব্রত শিবির ও কালীঘাট শিবিরের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে বিরোধ চরমে পৌঁছেছে। সেই বিরোধ নির্বাচন কমিশন পর্যন্ত গড়ানোর পর শনিবার কমিশন দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করে।
তবে প্রাথমিক শুনানির পর কমিশন তাৎক্ষণিকভাবে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। ঋতব্রত শিবিরকে আরও কিছু নথি জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। সেই নথির ভিত্তিতেই আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর কালীঘাট শিবিরকে ফের হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে ১৭ সেপ্টেম্বরও শুনানি হতে পারে।
কালীঘাট শিবিরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, কমিশন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে চিঠি পাঠিয়েছে। রবিবার সকালে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন এখনও কোনও অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দেয়নি এবং চলতি মাসের ১৬ ও ১৭ তারিখে ফের হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, কমিশনের তরফে এখনও কোনও অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ না আসায় কালীঘাট শিবিরের প্রার্থীই দলের নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে আসন্ন উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
এর আগে শনিবারের শুনানির পর কালীঘাট শিবিরের তরফে ডেরেক ও’ব্রায়েন নির্বাচন কমিশনকে একটি চিঠি দিয়েছিলেন। ওই চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, ঋতব্রত শিবির কমিশনের কাছে কী কী নথি জমা দিয়েছে, সে বিষয়ে মমতা শিবিরকে কোনও তথ্য জানানো হয়নি।
কালীঘাট শিবিরের দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসের বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী ২০২৭ সাল পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই দলের আনুষ্ঠানিকভাবে একমাত্র চেয়ারপার্সন। পাশাপাশি, দলের অভ্যন্তরীণ নির্বাচন নিয়ে ঋতব্রত শিবির যে প্রশ্ন তুলেছে, সেগুলিও আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয় বলে দাবি করেছে মমতা শিবির।
কালীঘাট শিবিরের চিঠি পাওয়ার পরই নির্বাচন কমিশন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরকে ফের তলব করেছে বলে জানা যাচ্ছে। সূত্রের খবর, মমতা শিবিরকে কমিশনের কাছে আরও কিছু নথি জমা দিতে হবে। পাশাপাশি, ঋতব্রত শিবিরের পক্ষ থেকে আগে জমা দেওয়া নথির ভিত্তিতে লিখিত জবাবও চেয়েছে কমিশন।
এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রতীক এবং দলের আনুষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলমান বিরোধে নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী শুনানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

About Author

Advertisement