রিয়াদ/সানা: ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা উন্নত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে, যেগুলোর আঘাত হানার ক্ষমতা সৌদি আরব ও ইসরায়েল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এসব ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে চীন থেকে পাঠানো গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা হচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, কনফ্লিক্ট আর্মামেন্ট রিসার্চ (সিএআর)-এর তদন্তে হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা বৃদ্ধির সম্ভাব্য ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
সিএআরের তদন্ত অনুযায়ী, উদ্ধার করা সরঞ্জাম ও যন্ত্রাংশ থেকে ধারণা করা হচ্ছে, হুথি বিদ্রোহীদের তৈরি করা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইরানের ‘খেইবার শেকান’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের নকশার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হতে পারে। খেইবার শেকান কঠিন জ্বালানিচালিত একটি নির্ভুল লক্ষ্যভেদী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। উড্ডয়নের সময় দিক পরিবর্তনের সক্ষমতা থাকায় কিছু আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে এটি প্রতিহত করা কঠিন হতে পারে। ক্ষেপণাস্ত্রটির সর্বোচ্চ পাল্লা প্রায় ১,২০০ মাইল বলে জানা গেছে। তবে হুথি বিদ্রোহীদের তৈরি ক্ষেপণাস্ত্রের প্রকৃত সক্ষমতা ও পাল্লা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এমন এক সময়ে এই তথ্য সামনে এসেছে, যখন সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সৌদি আরবের ওপর হুথি বিদ্রোহীদের হামলা নিয়ে উত্তেজনা বৃদ্ধির খবর পাওয়া যাচ্ছে। সৌদি আরবের নেতৃত্বে কার্যকর নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধসংক্রান্ত বিরোধও আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালির আশপাশে ইরান-সংশ্লিষ্ট হামলা ও উত্তেজনার কারণে বিশ্বব্যাপী তেলের সরবরাহ এবং দাম নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিএআরের তদন্ত ইয়েমেনের কর্মকর্তাদের জুলাই মাসে জব্দ করা দুটি চালানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। ধারণা করা হচ্ছে, এসব চালানে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম ও যন্ত্রাংশ অন্যান্য পণ্যের আড়ালে লুকিয়ে পাঠানো হয়েছিল। জব্দ করা সামগ্রীর মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্রের মোটর ও বাইরের কাঠামো তৈরির জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত ধাতব যন্ত্রাংশ, উড্ডয়নের সময় স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য পাখার মতো অংশ এবং খেইবার শেকান সিরিজের কঠিন জ্বালানিচালিত রকেট মোটরের সঙ্গে সম্পর্কিত যন্ত্রাংশ রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
পণ্য পরিবহনের নথিতে চীনের একটি প্রতিষ্ঠানের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি উচ্চ নির্ভুলতাসম্পন্ন ধাতব যন্ত্রাংশ তৈরি এবং মহাকাশ ও বিমান প্রযুক্তি শিল্পে সরঞ্জাম সরবরাহে বিশেষায়িত বলে জানা গেছে। তদন্তে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, কিছু যন্ত্রাংশ বেসামরিক কাজেও ব্যবহার করা সম্ভব। তবে অন্য কয়েকটি যন্ত্রাংশের গঠন ও বৈশিষ্ট্য থেকে সেগুলো ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে ব্যবহারের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।
এই তথ্যগুলো নিশ্চিত হলে তা হুথি বিদ্রোহীদের অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা এবং দূরপাল্লার হামলা চালানোর সম্ভাব্য ক্ষমতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিতে পারে। এর ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা, সৌদি আরব ও ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি এবং আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও হুথি বিদ্রোহীদের আচরণের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তবে চীন থেকে আসা যন্ত্রাংশের সরবরাহ, সেগুলোর চূড়ান্ত ব্যবহার এবং হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে সম্পর্কের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া ও আরও তদন্ত করা জরুরি।





