কলকাতা: আমাদের মধ্যে অনেকেই বাইরে থেকে ফিরে সরাসরি জুতা বা চপ্পল পরে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করি। কিছু দেশ ও সংস্কৃতিতে এটি স্বাভাবিক জীবনধারার অংশ হিসেবেও বিবেচিত হয়।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, এটি কি শুধুই ব্যক্তিগত পছন্দ বা সামাজিক প্রথা, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি?
সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও সাংস্কৃতিক বিতর্কে দেখা গেছে, ঘরের ভেতরে জুতা পরে চলাফেরা করা স্বাস্থ্যের জন্য উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বিশ্বজুড়ে এই বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। এশীয়, মধ্যপ্রাচ্য ও বলকান অঞ্চলে ঘরের ভেতরে জুতা পরে প্রবেশ করাকে অশোভন, অস্বাস্থ্যকর এবং অপবিত্রতার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। বিশেষ করে জাপানে ঘরের প্রধান দরজায় জুতা খোলার জন্য নির্দিষ্ট স্থান থাকে, যা পরিচ্ছন্নতা ও সাংস্কৃতিক শুদ্ধতার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। অন্যদিকে ইউরোপ ও আমেরিকার কিছু অংশে অতিথিদের জুতা খুলতে বলা অশোভন বলে বিবেচিত হয়, যদিও কেউ কেউ জুতা খোলার ফলে পায়ের দুর্গন্ধ ছড়ানোর আশঙ্কাও প্রকাশ করেন।
এই বিতর্কের বৈজ্ঞানিক দিক নিয়ে যুক্তরাজ্যের ব্রাইটন ইউনিভার্সিটির মাইক্রোবায়োলজিস্ট ড. সারা পিট জুতার উপর একটি পরীক্ষাগারভিত্তিক গবেষণা পরিচালনা করেন। পরীক্ষায় সংগ্রহ করা জুতার নমুনা পেট্রি ডিশে রেখে পর্যবেক্ষণ করা হলে এতে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া যায়। জুতার ওপর ও নিচের অংশে ‘স্ট্যাফাইলোককাস অরিয়াস’ নামক ব্যাকটেরিয়া শনাক্ত হয়, যা ত্বকের ক্ষত দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে পুঁজযুক্ত বেদনাদায়ক ফোড়া সৃষ্টি করতে পারে। দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এটি নিউমোনিয়া বা রক্তে গুরুতর সংক্রমণও ঘটাতে পারে।
এছাড়া জুতায় ‘স্ট্যাফাইলোককাস এপিডারমিডিস’ এবং মল-মূত্র থেকে ছড়ানো বিপজ্জনক ‘ই. কোলাই’ ব্যাকটেরিয়াও পাওয়া যায়, যা সহজেই ঘরের ভেতরে প্রবেশ করতে পারে। বৈজ্ঞানিকদের মতে, এসব জীবাণু ফ্লোর বা কার্পেটের মতো উষ্ণ স্থানে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে পারে। শিশু বা পরিবারের সদস্যরা যখন মেঝেতে বসে বা খেলাধুলা করে, তখন এসব জীবাণু সক্রিয় হয়ে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি।
এই স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে বাঁচতে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন যে, যেকোনো দেশেই থাকুন না কেন, ঘরে প্রবেশের আগে বাইরে ব্যবহৃত জুতা দরজার বাইরে খুলে রাখা উচিত। ঘরের ভেতরে ব্যবহারের জন্য আলাদা পরিষ্কার ইনডোর চপ্পল ব্যবহার করা যেতে পারে, যা কখনও বাইরে পরা হয় না। পাশাপাশি নিয়মিত ঘর পরিষ্কার করা, বিশেষ করে কার্পেট ও মেঝে গভীরভাবে পরিষ্কার করা এবং দরজায় ডোরম্যাট ব্যবহার করা সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকাংশে কমাতে সাহায্য করে।











