গোবিন্দার একাধিক পরকীয়া নিয়ে বিস্ফোরক স্ত্রী সুনীতা

IMG-20260629-WA0118

মুম্বই: গোবিন্দা এবং তাঁর স্ত্রী সুনীতা আহুজার দাম্পত্য জীবন নিয়ে বলিপাড়ায় চর্চা বহুদিনের। তবে এবার নিজেদের দাম্পত্য জীবন নিয়ে খোদ ওটিটির লাইভ মঞ্চে বোমা ফাটালেন অভিনেতা-ঘরণী। নেটফ্লিক্সে সদ্য শুরু হওয়া বিতর্কিত রিয়্যালিটি শো ‘লক আপ’-এর প্রিমিয়ার পর্বেই স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের এক অজানা দিক প্রকাশ্যে আনলেন সুনীতা। শোয়ের হোস্ট ফারহা খান ও রিতেশ দেশমুখের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি অকপটে স্বীকার করে নিলেন, গোবিন্দার একাধিক সম্পর্ক ছিল। আর স্বামীর এই কীর্তি নিয়ে তাঁর মন্তব্য, “ভালোবাসায় তো সব কিছুই সহ্য করতে হয়!” শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই রিয়্যালিটি শোয়ের মঞ্চে প্রতিযোগী হিসেবে পা রেখেই নিজের আসর জমিয়ে দেন সুনীতা। সেখানে ফারহা খান তাঁর পুরনো একটি সাক্ষাৎকার মনে করিয়ে দিয়ে প্রশ্ন করলে সুনীতা জানান, তিনি কেন অতীতে বলেছিলেন যে তিনি গোবিন্দের মতো ছেলে চান, কিন্তু স্বামী নয়। হাসিমুখে ক্যামেরার সামনে তিনি বলেন, “চি চি (গোবিন্দের ডাকনাম) জীবনে বহু অ্যাফেয়ার করেছে। আসলে হিরো-হিরোইনদের মধ্যে তো এসব হয়েই থাকে! তাই আমার মনে হয়, এতগুলো বছর আমি যেভাবে ওর সঙ্গে সংসারটা টিকিয়ে রেখেছি, সেই পুণ্যেই আমার ওঁর মতো একটা গুণী ছেলে পাওয়া উচিত।” আড্ডার মেজাজ আরও জমে ওঠে, যখন হোস্ট রিতেশ দেশমুখ একটা পুরনো খবরের শিরোনাম পড়ে শোনান। সেখানে লেখা ছিল, “স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে থাকলে ‘আঁখিয়ো সে গোলি মারে’ (চোখ দিয়ে গুলি চালানো), কিন্তু সম্পর্কে তৃতীয় কেউ ঢুকলে সোজা হাঁটুতে গুলি!” এই মজার লাইনে সায় দিয়ে খিলখিল করে হেসে ওঠেন সুনীতা। তারপর ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে সোজা স্বামীকে উদ্দেশ্য করে একগাল হেসে বলেন, “শুনছ তো চি চি (গোবিন্দের ডাকনাম)? কান খুলে শুনে নাও! জীবনে তৃতীয় কেউ এলে কিন্তু সত্যিই এবার হাঁটুতে গুলি লাগবে! আর সেদিন (গোবিন্দের পায়ে গুলি লাগার ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করে) তো আমি মুম্বইতেই ছিলাম না, খাটু শ্যামের মন্দিরে পুজো দিতে গিয়েছিলাম। অথচ লোকজন এমন রটাল যেন গুলিটা আমিই চালিয়েছি!”
২০২৪ সালের ১ অক্টোবর সাতসকালে গোটা দেশ চমকে উঠেছিল একটা খবরে, গোবিন্দা নিজের লাইসেন্সড রিভলভার পরিষ্কার করার সময় আচমকাই মিসফায়ার হয়ে নিজের বাঁ পায়ে, ঠিক হাঁটুর নিচে গুলি খেয়ে বসেন। তড়িঘড়ি তাঁকে মুম্বইয়ের হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছিল। ঠিক সেই সময়ে সুনীতা মুম্বইতে ছিলেন না, তিনি রাজস্থানের বিখ্যাত খাটু শ্যামজীর মন্দিরে পুজো দিতে গিয়েছিলেন। স্বামীর গুলি লাগার খবর পেয়েই তিনি পুজো শেষ করে মুম্বই রওনা দেন। সেই ঘটনার সুত্র ঘরেই এই প্রসঙ্গ ওঠে।
বাংলাসংবাদ পডকাস্ট
১৯৮৭ সালে কেরিয়ারের খাতিরে বিয়ের খবর গোপন রেখে সাতপাকে বাঁধা পড়েছিলেন এই জুটি। তাঁদের দুই সন্তান, টিনা ও যশবর্ধন। জীবনের নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আজও যে তাঁরা একসঙ্গে রয়েছেন, তার অন্যতম কারণ সুনীতার এই ‘সহনশীলতা’ এবং বাস্তববাদী মানসিকতা বলেই মনে করেন ভক্তরা।

About Author

Advertisement