কেপ ভার্দের বিপক্ষে কষ্টার্জিত জয়ে শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনা

photocollage_20267412413291

মিয়ামি: ম্যাচের দীর্ঘ একটা সময় মনে হচ্ছিল ফিফা র‍্যাংকিংয়ের ৬৭ তম দলের কাছে অঘটনের শিকার হবে না তো বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। নবাগত কেপ ভার্দে যে খেলা দেখাল মেসিদের তাতে তাদের দুর্বল বলার আর কোন উপায় নেই। ম্যাচে দুইবার পিছিয়ে পড়েও দেখিয়েছে কিভাবে প্রত্যাবর্তন করতে হয়। শেষ পর্যন্ত মেসিদের গোলে নয় বরং নিজেদের আত্মঘাতী গোলেই হারতে হয়েছে ভোজিনহাদের। সব নাটকীয়তা শেষে কেপ ভার্দেকে ৩-২ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে মেসিবাহিনী। আমেরিকার মিয়ামি স্টেডিয়ামে শনিবার ভোরে ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হোল্ডে নেয় আলবিসেলেস্তেরা। তবে ম্যাচের প্রথম আসল সুযোগটি তৈরি করেছিল কেপ ভার্দেই, সপ্তম মিনিটে বক্সে ঢুকে অধিনায়ক রায়ান মেন্দেস খেই না হারালে তখনই লিড পেতে পারত তারা। ধাক্কা সামলে ধীরে ধীরে আক্রমণ শানাতে থাকে আর্জেন্টিনা। প্রথমার্ধের হাইড্রেশন বিরতির পরপরই আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ—মেসি-জাদু! ২৯ মিনিটে নিজেদের অর্ধে দাঁড়িয়ে ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেস এক নিখুঁত দূরপাল্লার লং-বল বাড়ান। প্রথম স্পর্শেই অবিশ্বাস্য দক্ষতায় বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে কেপ ভার্দে গোলরক্ষক ভোজিনহাকে বোকা বানান মহাতারকা। এই গোলের সাথে সাথেই ইতিহাসের নতুন পাতায় নাম লেখালেন এলএমটেন। প্রথম ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের মঞ্চে ২০টি গোলের অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করলেন তিনি। একইসঙ্গে বিশ্বকাপে টানা ৮ ম্যাচে গোল এবং একাধিক বিশ্বকাপে (২০২২ ও ২০২৬) অন্তত ৭টি করে গোল করার অতিমানবীয় বিশ্বরেকর্ডও নিজের করে নিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েও দমে যায়নি আফ্রিকার দেশটি। বিরতির পর ৫৪ মিনিটে প্রথমবার এমিলিয়ানো মার্তিনেসকে পরীক্ষায় ফেলেন দিরয় দুয়ার্তে। তার খানিক বাদেই মেন্দেসের ক্রস থেকে সেই দুয়ার্তেরই নিচু শটে লিসান্দ্রোর পায়ের নিচ দিয়ে বল জালে জড়ালে ১-১ সমতায় ফেরে ম্যাচ। সমতায় ফেরার পর আর্জেন্টিনার সামনে স্রেফ চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়ান কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সী গোলকিপার ভোজিনহা। ৬৩ মিনিটে মেসির শট, ৭৩ মিনিটে মেসির টপ কর্নার ঘেঁষা ফ্রি-কিক কিংবা ৮১ মিনিটে এনজোর নিশ্চিত হেড—একের পর এক অতিমানবীয় সেভে আর্জেন্টিনাকে হতাশায় ডুবিয়ে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে টেনে নেন এই বুড়ো। ইতিহাস বলছে, আর্জেন্টিনার শেষ ১৩টি বিশ্বকাপ নকআউট ম্যাচের ৭টিই গড়িয়েছে অতিরিক্ত সময়ে। কাতার বিশ্বকাপের নেদারল্যান্ডস ও ফ্রান্স বধের স্মৃতি ফিরিয়ে এনে এক্সট্রা টাইমের দ্বিতীয় মিনিটেই আর্জেন্টিনাকে লিড এনে দেন লিসান্দ্রো মার্তিনেস। কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে দূরের পোস্টে জোরালো শটে জাতীয় দলের হয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন এই ডিফেন্ডার। কিন্তু নাটকের তখনও অনেক বাকি! হারার আগে হার না মানার পণ করা কেপ ভার্দে ১০৩ মিনিটে আবারও স্তব্ধ করে দেয় মায়ামিকে। মাক আলিস্টারকে কাটিয়ে বক্সের কোনা থেকে সিডনি লোপেজ কাবরালের নেওয়া ডান পায়ের দুর্দান্ত শট টপ কর্নার দিয়ে জালে জড়ালে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ২-২! শেষ পর্যন্ত ১১১ মিনিটে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত ও ভাগ্যনির্ধারক গোল। মেসির কর্নার থেকে বক্সে হেড নিয়েছিলেন ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, তবে বলটি কেপ ভার্দের ডিফেন্ডার বারগেসের গায়ে লেগে আত্মঘাতী গোল হিসেবে জালের ভেতর আশ্রয় নেয়। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার ৫ মিনিট আগে আরও একবার ফ্রি-কিক থেকে সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল কেপ ভার্দে। তবে এবার আর ভুল করেননি আর্জেন্টিনার ‘বাজপাখি’ এমিলিয়ানো মার্তিনেস। ডানদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে দুর্দান্ত এক সেভে নিশ্চিত করেন আর্জেন্টিনার শেষ ষোলোর টিকিট।

About Author

Advertisement