কাঠমান্ডু: নেপালের রাজধানী বর্তমানে বিশ্ব শক্তিগুলির মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্র সচিব সমীর পল কাপুরের কাঠমান্ডু আগমনের পরপরই বেইজিং থেকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের উপ-পরিচালক গাও শিং তড়িঘড়ি নেপালে পৌঁছেছেন। এই কূটনৈতিক প্রতিযোগিতা দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে নতুন সাড়া ফেলেছে এবং বিশ্লেষকদের মতে এটি নয়াদিল্লির জন্যও একটি সতর্কবার্তা।
চীনের প্রধান উদ্বেগ ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিত হতে চলা তিব্বতের নির্বাসিত সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে ঘিরে। চীনা কর্তৃপক্ষ নেপাল সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে যাতে তারা এই অনুষ্ঠান থেকে সম্পূর্ণ দূরত্ব বজায় রাখে। নেপাল আনুষ্ঠানিকভাবে ‘এক চীন’ নীতির সমর্থক হওয়ায় বেইজিং চায় না যে কাঠমান্ডু এমন কোনো কার্যকলাপে অংশ নিক, যা তারা নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করে।
অন্যদিকে মার্কিন প্রতিনিধি সমীর পল কাপুর স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, নেপালে চীন বা অন্য কোনো দেশের একচ্ছত্র প্রভাব তারা চান না। এই মন্তব্যে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
প্রাক্তন কূটনীতিক এস ডি মুনির মতে, যুক্তরাষ্ট্র কখনোই চায় না যে নেপাল নীতিগত বিষয়ে ভারতের অনুসারী হয়ে থাকুক। তিব্বতের ভৌগোলিক নৈকট্যের কারণে যুক্তরাষ্ট্র নেপালে নিজস্ব প্রভাব গড়ে তুলতে আগ্রহী।
এই পরিস্থিতিতে চীন নেপালকে এলন মাস্কের উপগ্রহভিত্তিক যোগাযোগ পরিষেবা এবং মার্কিন নিরাপত্তা কর্মসূচি থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে বলে জানা গেছে। এখন প্রশ্ন উঠছে, বালেন শাহের নেতৃত্বাধীন তুলনামূলক নতুন সরকার এই ত্রিমুখী ভূ-রাজনৈতিক চাপের মধ্যে কীভাবে দেশের স্বার্থ রক্ষা করবে এবং তিনটি শক্তির সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রাখবে।









