ডক্টর রাজভূষণ চৌধুরী((ভারত সরকারের জলশক্তি মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী)
বর্তমানে পৃথিবীর পরিবেশ এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে যেখানে প্রকৃতির ইঙ্গিতগুলি ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে ওঠছে এবং ঋতু পরিবর্তনের চিরাচরিত চক্র ভীষণভাবে প্রভাবিত হওয়ার মুখে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর দূরদৃষ্টি দিয়ে মে মাসের শেষ দিকেই স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে এবারে প্রবল গরম পড়বে। তিনি দেশবাসীকে আন্তরিকভাবে আবেদন জানিয়েছিলেন যথেষ্ট পরিমাণে জল খেতে এবং জলের উৎস সংরক্ষণে সতর্ক থাকতে। প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বান একটি আলোকবর্তিকা হিসেবে প্রমাণিত হচ্ছে, বর্তমানের অভূতপূর্ব পরিবেশগত সংকটের মধ্যে দেশকে দেখাচ্ছে সুরক্ষিত পথ। পৃথিবীর নিরন্তর ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা এবং ঋতুচক্রের ঘনঘন পরিবর্তন স্পষ্ট সাক্ষী দিচ্ছে যে জলবায়ু পরিবর্তন আর কোনও বহু দূরের বিষয় নয়, বরং এটি আমাদের সময়ে হয়ে উঠেছে সবচেয়ে বড় প্রশাসনিক এবং সামাজিক চ্যালেঞ্জ। অসময়ে অত্যধিক বৃষ্টিপাত, দীর্ঘ খরা এবং গ্রীষ্মকালের সাংঘাতিক প্রকৃতি বর্তমানে সমগ্র বিশ্ব সমাজের জন্য এক গভীর উদ্বেগের বিষয়। এই বিশ্ব আবহাওয়ার উত্থান-পতনের কেন্দ্রে রয়েছে একটি অতি জটিল হাইড্রো-মেটিরিওলজিক্যাল বিষয় যা উত্থিত হচ্ছে প্রশান্ত মহাসাগর থেকে, আধুনিক বিজ্ঞানের ভাষায় এটি পরিচিত ‘এল নিনো’ নামে। ভারতের মতো একটি দেশে – এত বড়, জনবহুল এবং মূলত কৃষিনির্ভরশীল এই দেশে – এই এল নিনো চক্র শুধুমাত্র গবেষণাগারের বিষয় হিসেবে থাকতে পারে না। এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বাস্তব বিষয় যা সরাসরি যুক্ত সারা দেশের লক্ষ লক্ষ কৃষক পরিবারের জীবন-জীবিকা, গ্রামীণ অর্থনীতি এবং আমাদের জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তার সঙ্গে। সমুদ্র বিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠিত সূত্র অনুযায়ী স্বাভাবিক অবস্থায় জোরালো হাওয়া বয় পূর্ব থেকে পশ্চিমে প্রশান্ত মহাসাগরীয় নিরক্ষীয় অঞ্চল জুড়ে যা গরম হাওয়াকে ঠেলে দেয় এশিয়া এবং অস্ট্রেলিয়ার দিকে। এর প্রভাবে ঠান্ডা পুষ্টি সমৃদ্ধ জল দক্ষিণ আমেরিকার পেরু উপকূলে সমুদ্রের গভীর থেকে উত্থিত হয়। এই প্রক্রিয়া বিশ্বের জলবায়ু চক্রের ভারসাম্য রক্ষায় সাহায্য করে এবং ভারতের বর্ষায় একটি ইতিবাচক বৃদ্ধি ঘটায়, তবে এল নিনো-র প্রভাবকালে এই হাওয়া আচমকাই দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সময়ে সময়ে এটি সম্পূর্ণ রূপে দিক পরিবর্তন করে ফলে সমুদ্রের ওপরের গরম জল দক্ষিণ আমেরিকার উপকূল অঞ্চলের দিকে ধেয়ে যায় পশ্চিম দিকের পরিবর্তে। সমুদ্রের উপরিভাগের এই অস্বাভাবিক উষ্ণতা সমগ্র আবহ চাপ অঞ্চলে বিঘ্ন ঘটায় এবং সারাবিশ্বেই মেঘ তৈরি এবং বৃষ্টিপাতে বিঘ্ন ঘটায়। একদিকে এই বৈশিষ্ট্যের ফলে পেরুর কোনও কোনও অঞ্চলে অত্যধিক বৃষ্টিপাত এবং বন্যা হয়, অন্যদিকে ভারত এবং দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার ওপরে বাড়ায় বাতাসের চাপ। ফলে মৌসুমি বায়ুর গতিকে দুর্বল করে দেয়। ভারতের মাটিতে এর সরাসরি প্রভাব প্রতিফলিত হয় ভীষণ রকম বৃষ্টিপাতের ঘাটতিতে, বিচ্ছিন্ন বৃষ্টিপাত এবং গরমের সময়ে রেকর্ড ভাঙা তাপমাত্রায়। এটা একটি বৈজ্ঞানিক বিপর্যয় যাতে দেশের সমগ্র হাইড্রোলজিক্যাল সাইকল এবং ওয়াটার সার্কুলেশনকে অস্থির করার পূর্ণ ক্ষমতা আছে। এরসঙ্গে মিলে পশ্চিমী ঝঞ্ছার পরিবর্তিত ধরন এবং এল নিনো-র প্রভাব মিলে প্রবল জল সংকটের পরিস্থিতি এবং দেশে আবহাওয়ার অস্থিরতা সৃষ্টি করে। প্রধানমন্ত্রী সবসময় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন জল নিরাপত্তায়, জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং প্রতিরক্ষার সঙ্গে একই মাত্রায়। তাঁর স্পষ্ট ভাবনা আছে যে, জল সংরক্ষণকে প্রত্যেক নাগরিকের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ করে তোলা উচিত এবং একে বিশাল জন আন্দোলনে পরিণত করা উচিত। এই ভাবনায় ভর করে তিনি ‘ক্যাচ দ্য রেন’ অভিযানের সূচনা করেছিলেন। যার মূল মন্ত্রটি হল – আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমাদের বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটা পৃথিবীর যেখানেই পড়ুক না কেন তা সংরক্ষণ করতে হবে। দেশের ইতিহাসে এই প্রথম বর্তমান সরকার ‘জলশক্তি মন্ত্রক’-এর মাধ্যমে একটি সুসংহত এবং শক্তিশালী প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি করেছে যা প্রকৃতই একটি রূপান্তরকারী উদ্যোগ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে দেশের জল পরিকল্পনায় নতুন, বিজ্ঞানসম্মত এবং সংগত নির্দেশ দেওয়ার মাধ্যমে। ক্রমবর্ধমান নগরায়ন এবং অপরিকল্পিত ব্যবহারের ফলে পৃথিবীর জলস্তরের লাগাতার অবনমন রুখতে এবং জলের উৎসগুলির দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার নীতি এবং কর্মসূচির জন্য অত্যন্ত বিস্তারিত এবং আন্তঃযুক্ত কাঠামো তৈরি করেছে।দেশে ‘জল জীবন হরিয়ালি মিশন’ পরিবেশের ভারসাম্য এবং জল সংরক্ষণে নতুন শক্তি জুগিয়েছে। ‘জল জীবন মিশন’-এর মাধ্যমে বর্তমানে ‘হর ঘর জল’ সংকল্প নিয়ে দেশের প্রত্যেকটি গ্রামীণ ও দুর্গম এলাকায় শুদ্ধ, পরীক্ষিত এবং নিরবচ্ছিন্ন পানীয় জল সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি ‘অটল ভূজল যোজনা’-য় ভূস্তরের জলের মাত্রা, বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা এবং পুনর্বার শূন্যস্থান পূরণ করা হচ্ছে জনগণের অংশীদারিত্বে যেখানে বেশিমাত্রায় জল খরচ হয়ে গেছে এমন এলাকায়। কৃষিক্ষেত্রের সুস্থায়িত্বের জন্য ‘প্রধানমন্ত্রী কৃষি সিঁচাই যোজনা’-তে আধুনিক অণুসেচ কৌশল যেমন ড্রিপ ও স্প্রিঙ্কলার ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে দেশজুড়ে, ‘পার ড্রপ মোর ক্রপ’ নীতি মেনে যাতে জলের প্রতিটি বিন্দুর পূর্ণ ব্যবহার করা যায়। এছাড়াও ‘অমৃত সরোবর মিশন’ শুরু হয়েছে জলাশয়গুলির কার্যকরী সংরক্ষণের জন্য। নতুন জীবন দেওয়া হয়েছে স্থানীয় জলের উৎসগুলিতে। দেশের প্রতিটি জেলায় অন্তত ৭৫টি ঐতিহাসিক এবং নতুন পুষ্করিণী তৈরি করে বা সংস্কার করে। এইসব জাতীয় উদ্যোগের সঙ্গে সরকার পুরোদমে কাজ করছে ‘রিভার ইন্টারলিঙ্কিং’-এর মতো সাহসী প্রকল্প নিয়ে এবং আধুনিক ‘ডিস্যালিনেশন কৌশল’ ব্যবহার করা হচ্ছে সমুদ্রের নোনা জল পরিশোধন করতে যাতে দেশের কোনও অংশ জলসংকটে না ভোগে।অত্যন্ত বেশি তাপমাত্রা এবং প্রবল তাপপ্রবাহ মানুষের শরীরে অভ্যন্তরীণ জৈব ভারসাম্যে প্রবল চাপ সৃষ্টি করে। আমাদের শরীর মূলত একটি নির্ধারিত এবং বাধ্যতামূলক জলের অংশের ওপর কাজ করে। যখন বাইরের তাপমাত্রা শরীরের ভেতরের স্বাভাবিক তাপমাত্রাকে ছাড়িয়ে যেতে শুরু করে তখন শরীর ঘামের মাধ্যমে নিজেকে ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করে। এই চলমান ঘামের প্রক্রিয়া জলের এবং প্রয়োজনীয় ইলেকট্রোলাইটস-এর প্রবল অভাব সৃষ্টি করে যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে ডিহাইড্রেশন বলা হয়। যখন এই পরিস্থিতি প্রবল হয়ে ওঠে তখন শরীরের কেন্দ্রীয় স্নায়ু ব্যবস্থা প্রভাবিত হতে শুরু করে তা এক সময়ে হিটস্ট্রোকের সৃষ্টি করে। আমাদের সমাজে যারা সবচেয়ে বেশি বিপদের মুখোমুখি তারা হলেন বয়স্ক মানুষ, ছোট ছোট ছেলেমেয়ে, গর্ভবতী মহিলা, কঠোর পরিশ্রমী কৃষক শ্রমিক ভাইয়েরা যারা দেশকে নতুন করে তৈরি করতে কড়া রোদে কাজ করে, তাঁরাই এই মরসুমি দুর্যোগের দহন বহন করেন। এইক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। নিয়মিত যথেষ্ট পরিমাণে পরিশ্রুত জল, ওআরএস, লেবু জল এবং টাটকা বাটার মিল্ক খাওয়া প্রত্যেকের প্রয়োজন শরীরে জলের মাত্রা ঠিক রাখতে। দুপুরে যখন সূর্যের তাপ সবচেয়ে বেশি তখন প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বেরোনো সম্পূর্ণভাবে এড়ানো উচিত। বয়স্ক এবং শিশুদের ঘরে ঠিকঠাক ঠান্ডা রাখা এবং বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা থাকা উচিত। মাঠে এবং নির্মাণ স্থলে কর্মরত কৃষক এবং শ্রমিকদের সুতির কাপড়ে মাথা ঢাকতে হবে এবং যথেষ্ট পরিমাণে জল খেতে হবে সেইসঙ্গে ছায়ায় মাঝেমাঝে বিশ্রাম নিতে হবে। ঝিমুনি অথবা প্রবল মাথাব্যথার মতো শারীরিক অস্বস্তিতে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।যখন আমরা আধুনিক বিজ্ঞানের এই গভীর নীতি নিয়ে নাড়াচাড়া করছি তখন আমাদের মনে রাখতে হবে সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও প্রাচীন ভারতীয় সভ্যতায় প্রাচ্য রীতির জল সংরক্ষণ পদ্ধতিগুলিকেও, যা শত শত বর্ষ আগে জলের জীবনদায়ী গুরুত্বের এই চিরন্তন সত্যকে সম্পূর্ণভাবে বুঝতে পেরেছিল। আমাদের প্রাচীন পুঁথি এবং বেদে জলকে কখনও শুধুমাত্র ব্যবহারিক সম্পদ হিসেবে দেখা হতো না বরং এটাকে মনে করা হতো একটি বিশ্বাসযোগ্য ওষুধ হিসাবে। রাজস্থানে এলে তাঁদের জল সংস্কৃতির একটি অভিনব পরিচয় মেলে, দেখা যায় কীভাবে স্থানীয় সমাজ চরম মরুভূমির মতো পরিস্থিতির মধ্যে চিরাচরিত পদ্ধতি মেনে জলের প্রতিটি ফোঁটা সংরক্ষণে অসাধারণ পদ্ধতি নিয়েছে। রাজস্থানের শৈল্পিক এবং বিশাল স্তরকূপ, পুকুর এবং কুয়োগুলি জলজ্যান্ত প্রমাণ যে কীভাবে প্রতিকূল আবহাওয়ায় সমাজ সাংস্কৃতিক চেতনা এবং প্রজ্ঞার সঙ্গে জলসমৃদ্ধ থাকতে পারে। একইরকমভাবে চান্দেলা পর্বের বুন্দেলখণ্ডের পুকুরগুলি, দক্ষিণ ভারতের এরি ব্যবস্থা এবং আহার পাইনের মতো সেচ ব্যবস্থা যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে উত্তর ভারত এবং বিহারের সমতলে কাজ করে চলেছে যা আমাদের সামাজিক এবং সম্মিলিত চেতনার প্রাণবন্ত কেন্দ্রবিন্দু শুধুমাত্র কারিগরির অত্যাশ্চর্য উদাহরণের তুলনায়। জলকে শ্রদ্ধা করা, জলাশয়কে অত্যন্ত পবিত্র ভাবা করে রাখা এবং সকলে মিলে তার তত্ত্বাবধান করা আমাদের সমাজের একটি স্বাভাবিক এবং আন্তরিক গুণ। আজকের এই আধুনিক এবং কংক্রিটের যুগে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন এইসব প্রাচীন উপকরণগুলিকে উন্নত আধুনিক বিজ্ঞানের উপকরণের সঙ্গে পুরোপুরি সংহত করা। জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক প্রভাব এবং জলসংকট শুধু মানব সমাজের সীমানায় আবদ্ধ থাকতে পারে না। প্রকৃতির রুদ্র রূপ একইরকমভাবে মারাত্মক সেইসব অবলা প্রাণীর জন্যেও যারা আমাদের আশেপাশে ঘুরছে যারা তাদের পিপাশা এবং কষ্টের কথা পুরোপুরি শব্দে প্রকাশ করতে পারে না। যখন আমরা আমাদের সুরক্ষিত এবং ছায়াঘেরা বাড়িতে বসে থাকি এবং এই সংকটের বিশ্বের তথ্য বিশ্লেষণ করি তখন আমাদের উঠোনে, ছাদে, বাগানেও নজর দিতে হবে যেখানে পাখি, কাঠবিড়ালি, গরু-বাছুর এবং অন্যান্য ছোট ছোট প্রাণীকে দেখা যাবে যারা এক ফোঁটা জলের জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছে। আমাদের সনাতন সংস্কৃতি সবসময় সমগ্র বিশ্বের প্রতি প্রবল সহমর্মিতা এবং একসঙ্গে বসবাসের বার্তা দিয়েছে। প্রকৃতির সমগ্র ভারসাম্য নির্ভর করছে এই আন্তঃনির্ভরতার ওপর। এটা আমাদের সবচেয়ে বেশি মানবিক এবং নৈতিক দায়িত্ব – বাড়ির ছাদে, বারান্দায় এবং মাঠের ধারে অথবা আমাদের দোকানের বাইরে একটি ছোট মাটির পাত্রে পরিষ্কার ঠান্ডা জল রাখা এই প্রবল গরমে। পশুপ্রাণীর জন্য সহমর্মিতাকে কাজে লাগালে এই ছোট্ট প্রয়াস একটি অমূল্য জীবনদায়ী হয়ে উঠতে পারে প্রবল রোদে ওড়া পিপাসার্ত পাখির জন্য। যখন এই ধরনের সংবেদনশীলতা সমাজে প্রত্যেক ব্যক্তির প্রতিদিনের আচরণের অঙ্গ হয়ে ওঠে দেশ তখন বিশ্বকে নেতৃত্বে দেওয়ার যোগ্য হয়ে ওঠে শুধুমাত্র অর্থনৈতিকভাবে নয় বরং সাংস্কৃতিকভাবে এবং আধ্যাত্মিকভাবে। পুরোনো খবরের কাগজের পাতা থেকে শুরু করে সমসাময়িক সাংবাদিকতার নিবন্ধে জল সংকটের এই স্বরের প্রতিধ্বনি প্রতিনিয়ত সতর্ক করছে আমাদের। এই অভূতপূর্ব জলবায়ু পরিবর্তনের কালে জল সংরক্ষণ এবং সঠিক উপায়ে তা পূরণ পরিবেশবিদদের সভা সমিতিতে শুধুমাত্র একটি পরাবাস্তব আলোচনার বিষয়। এটা সরাসরি আমাদের দেশের সীমান্তের নিরাপত্তা, আমাদের কৃষি ব্যবস্থার আত্মনির্ভরতা, আমাদের শিল্পের প্রাণচাঞ্চল্য এবং আমাদের আগামী প্রজন্মের নিরাপদ ভবিষ্যতের গ্যারান্টি। জল নিরাপত্তা এবং জলের উৎস সংরক্ষণ বিকশিত ভারতের লক্ষ্যে একটি এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং মৌলিক উদ্যোগ হিসেবে প্রমাণিত হবে। ‘জল হ্যায় তো কাল হ্যায়’ এই চিরকালীন স্লোগান মানব সভ্যতার অস্তিত্ব রক্ষায় সবচেয়ে বড় এবং অটল সত্য, শুধুমাত্র একটা সাধারণ স্লোগান নয়। আজ সময়ের দাবি যে আমাদের সবাইকে মিলে এই অটুট সংকল্প নিতে হবে যে আমরা জলের প্রত্যেকটি ফোঁটাকে সম্মান করবো, পুরোপুরি বন্ধ করবো অপ্রয়োজনীয় অপব্যবহার এবং আমাদের চারপাশে থাকা চিরাচরিত জলের উৎসগুলিকে বাঁচিয়ে তুলবো দূষণহীন করে। অবলা প্রাণীদের জন্য আমাদের সহমর্মিতাকে আচরণে পরিবর্তন করা, প্রকৃতির সঙ্গে ভারসাম্যযুক্ত, সীমিত এবং আন্তরিক সম্পর্ক তৈরি করাই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। এই ছোট্ট সংকল্প যদি আজ সবাই মিলে নেওয়া যায় তাহলে তা সামগ্রিকভাবে সফল প্রমাণিত হবে ‘বিকশিত ভারত’-এর সবচেয়ে শক্ত ভিত স্থাপনে – যে ভারত আগামী দিনগুলিতে হয়ে ওঠবে আরও শক্তিশালী, সমৃদ্ধ, আত্মনির্ভর, নিরাপদ এবং জল নিরাপত্তাযুক্ত।










