নয়াদিল্লি: ইংল্যান্ড ফুটবল দলের প্রাক্তন অধিনায়ক ও ম্যানেজার কেভিন কিগান ৭৫ বছর বয়সে প্রয়াত হয়েছেন। দীর্ঘ সময় ধরে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াইয়ের পর তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে তাঁর প্রাক্তন ক্লাব নিউক্যাসল ইউনাইটেড এবং ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে কিগানের ক্যান্সার ধরা পড়ার কথা তাঁর পরিবার জানিয়েছিল এবং জুন মাসে তিনি নিজেই জানিয়েছিলেন যে তিনি ‘স্টেজ ৪’ ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন।
নিউক্যাসল ইউনাইটেডের এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “কেভিন কিগানের প্রয়াণের খবরে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। তিনি ছিলেন আমাদের ক্লাবের ইতিহাসের অন্যতম আইকনিক, প্রভাবশালী ও জনপ্রিয় কিংবদন্তি। খেলোয়াড় হিসেবে তাঁর বিশ্বমানের প্রতিভা ও নেতৃত্ব সেন্ট জেমস পার্কে ক্লাবের এক নতুন পরিচিতি গড়ে তুলেছিল; অন্যদিকে ম্যানেজার হিসেবে তিনি শহর ও সমর্থকদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা ও আশার সঞ্চার করেছিলেন। তাঁর দলের আক্রমণাত্মক খেলার ধরন ও লড়াকু মানসিকতা বিশ্বজুড়ে সমর্থকদের হৃদয় জয় করেছিল।”
কেভিন কিগানকে ইংলিশ ফুটবলের ইতিহাসের অন্যতম সেরা এবং অত্যন্ত আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের অধিকারী খেলোয়াড় হিসেবে গণ্য করা হয়। তাঁর ক্যারিয়ারের শুরুর ও স্বর্ণালী সময়ে তিনি লিভারপুলের হয়ে তিনটি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা, একটি ইউরোপিয়ান কাপ এবং দুটি উয়েফা কাপ জয় করেন। পরবর্তীতে তিনি জার্মান ক্লাব হামবুর্গে যোগ দেন এবং দলটিকে বুন্দেসলিগা চ্যাম্পিয়ন হতে নেতৃত্ব দেন।
ধারাবাহিকভাবে অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শনের সুবাদে কিগান টানা দুই বছর (১৯৭৮ ও ১৯৭৯) ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার ‘ব্যালন ডি’অর’ জয় করেন।
আন্তর্জাতিক পর্যায়েও কিগানের অবদান ছিল অতুলনীয়।
১৯৭২ থেকে ১৯৮২ সালের মধ্যে তিনি ইংল্যান্ডের হয়ে ৬৩টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে ২১টি গোল করেন। এই সময়ে তিনি ৩১টি ম্যাচে জাতীয় দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় ফুটবল তারকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত রাখেন। খেলোয়াড়ি জীবন থেকে অবসরের পর তিনি নিউক্যাসল ইউনাইটেড, ম্যানচেস্টার সিটি, ফুলহ্যাম এবং ইংল্যান্ড জাতীয় দলের ম্যানেজারের দায়িত্বও পালন করেন। কেভিন কিগানের প্রয়াণে বিশ্ব ফুটবল এক কিংবদন্তি ব্যক্তিত্বকে হারাল।










