অঙ্কুরিত শস্য ও ডাল যে পুষ্টিগুণে ভরপুর, তা সকলেরই জানা। অঙ্কুরিত শস্য ও ডালে প্রায় সব ধরনের ভিটামিন ও খনিজ উপাদান পাওয়া যায়। গম, ভুট্টা, যব, বাজরা, সম্পূর্ণ মুগ, লাল ও সাদা লোবিয়া, চিনাবাদাম, মটর, মসুর, কালো ছোলা প্রভৃতি শস্য ও ডাল সহজেই অঙ্কুরিত করা যায়।কীভাবে অঙ্কুরিত করবেন:ডাল বা শস্য ভালোভাবে পরিষ্কার করে ধুয়ে প্রায় ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হয়। মাঝেমধ্যে পুরোনো পানি ফেলে দিয়ে নতুন পানি দিতে হবে। এরপর পানি ঝরিয়ে পরিষ্কার পাত্রে শস্য বা ডাল রাখতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, পাত্রে যেন এক-চতুর্থাংশের বেশি না থাকে, যাতে শস্য বা ডাল ভালোভাবে ফুলতে পারে।পাত্রটি এমন জায়গায় রাখতে হবে যেখানে বেশি ঠান্ডা নয়, কারণ অঙ্কুর গজানোর জন্য উষ্ণ ও অন্ধকার পরিবেশ উপযোগী। পাত্র সম্পূর্ণভাবে ঢেকে রাখা উচিত নয়, সামান্য ফাঁকা রাখতে হবে যাতে বাতাস চলাচল করতে পারে। ডাল বা শস্য থেকে সাদা অঙ্কুর বের হলে তা সতেজ রাখতে ঠান্ডা ঘরে রাখা যেতে পারে এবং চার থেকে পাঁচ দিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা সম্ভব।সতর্কতা:অঙ্কুরিত ডাল দীর্ঘ সময় পানি না বদলে রাখা উচিত নয়। এতে অতিরিক্ত গাঁজন হয়ে স্বাদ নষ্ট হতে পারে। ঠান্ডা ও আলোকিত স্থানে অঙ্কুর ভালোভাবে জন্মায় না।অঙ্কুরিত খাদ্যের উপকারিতা:অঙ্কুরিত শস্য ও ডালে ভিটামিন, খনিজ ও প্রোটিনের পরিমাণ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এগুলো সহজে হজম হয় এবং এতে পর্যাপ্ত আঁশ ও জলীয় অংশ থাকে। ডাল অঙ্কুরিত করলে গ্যাস সৃষ্টির প্রবণতা প্রায় ৯০ শতাংশ কমে যায়।অঙ্কুরিত ডাল ভেজে বা ভুনে খাওয়া উচিত নয়, কারণ এতে পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যায়। এগুলো কাঁচা খাওয়াই উত্তম। স্বাদ বাড়াতে সামান্য কালো লবণ ও লেবুর রস মেশানো যেতে পারে। এছাড়া শসা, পেঁয়াজ, টমেটো, লেবু, লবণ ও ধনেপাতা মিশিয়ে সালাদ হিসেবে খেলে এর স্বাদ আরও বাড়ে।









