পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে নৃশংসতা, অথচ জম্মু ও কাশ্মীরের প্রতি ‘লোক দেখানো ভালোবাসা’

PAKISTAN-KASHMIR-POLITICS-PROTEST-1_1785778999437_1785779024800_c1d15d4b-1d5a-4106-9e15-d42e6505d604

৩৭০ ধারা নিয়ে পাকিস্তানের দ্বিমুখী আচরণ উন্মোচিত

নয়াদিল্লি: জম্মু ও কাশ্মীর সংক্রান্ত ৩৭০ ধারা বাতিলের বর্ষপূর্তিতে কাশ্মীর ইস্যুতে ভারত-বিরোধী তীব্র অবস্থান নিয়েছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। পাকিস্তান সরকার ও সেনাবাহিনী ৫ আগস্ট দিনটিকে ‘ইয়োম-ই-ইস্তেহসাল’ (শোষণের দিন) হিসেবে পালন করে থাকে। এই উপলক্ষকে কাজে লাগিয়ে পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্ব কাশ্মীরি জনগণের প্রতি তাদের সমর্থনের কথা ঘোষণা করেছে। তবে এই বিবৃতি এমন এক সময়ে এল, যখন পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের (পিওকে) জনগণই খোদ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অত্যাচারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
তিন বাহিনীর প্রধানদের ফাঁকা আস্ফালন
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা (আইএসপিআর)-এর এক যৌথ বিবৃতিতে সেনাপ্রধান অসীম মুনির, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল নাভিদ আশরাফ এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জহির আহমেদ বাবর সিধু বলেছেন:
দক্ষিণ এশিয়ায় দীর্ঘস্থায়ী শান্তি তখনই সম্ভব, যদি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবনা এবং কাশ্মীরি জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী কাশ্মীর বিরোধের সমাধান করা হয়।
২০১৯ সালের ৫ আগস্ট ভারত সরকার ৩৭০ ধারা বাতিল করার পর থেকে কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে এবং অঞ্চলটির জনমিতিক কাঠামো পরিবর্তনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
এই সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য ভারতের ওপর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ সৃষ্টি করা উচিত।
পিওকে-তে বিদ্রোহের আগুন
একদিকে পাকিস্তান সেনাবাহিনী যখন জম্মু ও কাশ্মীরের জনগণের প্রতি ভালোবাসার ভান করছে, ঠিক অন্যদিকে পিওকে-তে তাদের পাশবিক রূপ উন্মোচিত হচ্ছে।
সাধারণ মানুষের ওপর গুলিবর্ষণ:
পিওকে মৌলিক সুযোগ-সুবিধা ও স্বাধীনতার দাবিতে সোচ্চার সাধারণ নাগরিকদের ওপর পাকিস্তান সেনাবাহিনী গুলিবর্ষণ করছে।
মসজিদে হামলা ও হত্যাকাণ্ড: মসজিদকে লক্ষ্য করে হামলা এবং একজন ইমামকে হত্যার সাম্প্রতিক ঘটনার জেরে পাক-অধিকৃত কাশ্মীরজুড়ে জনরোষ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।
​সত্য গোপন করার প্রচেষ্টা: পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) সেনাবাহিনীর নৃশংসতা যাতে প্রকাশ্যে না আসে, তা রোধ করতে পাকিস্তান বিদেশি গণমাধ্যমের চলাফেরা ও সংবাদ সংগ্রহের ওপর কঠোর নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বেলুচিস্তানের পরিস্থিতির পর এখন সিন্ধু ও পাক-অধিকৃত কাশ্মীরেও আসিম মুনির এবং শাহবাজ সরকারের বিরুদ্ধে গৃহযুদ্ধের মতো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে; এই বিষয় থেকে মনোযোগ সরানোর লক্ষ্যেই পাকিস্তান আবারও ‘কাশ্মীর ইস্যু’ সামনে নিয়ে আসছে।

About Author

Advertisement