ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী দ্বারা উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রথম মেমু ট্রেন পরিসেবার শুভ উদ্ধোধন

dd4aae49-fc84-489e-ae73-4149d5102a43

মালিগাঁও: উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে এই অঞ্চলের প্রথম ‘মেইনলাইন ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট’ (মেমু) ট্রেন পরিষেবা শুরু করার মাধ্যমে ত্রিপুরা ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে যাত্রীবাহী রেল পরিবহনের এক নতুন যুগের সূচনা করেছে। ত্রিপুরার মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা ৪ জুলাই, ২০২৬ তারিখে আগরতলা রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেন নং. ৭৫৬৭৯/৭৫৬৮০ (আগরতলা-করিমগঞ্জ-আগরতলা) মেমু ট্রেনের যাত্রার শুভ উদ্ধোধন করেন। যে ট্রেনটি আগে ডিজেল ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট (ডেমু) পরিষেবা হিসেবে চলেছিল, সেটিকে এখন সফলভাবে নতুন মেইনলাইন ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট (মেমু)-তে রূপান্তর ও উন্নীতকরণ করা হয়েছে; এই রুটে বৈদ্যুতিকীকরণের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর এটি একটি উল্লেখযোগ্য প্রযুক্তিগত অগ্রগতি। এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপটি সমগ্র অঞ্চলের রেলপথে দ্রুত বৈদ্যুতিকরণের পর আধুনিকীকরণ, স্থিতিশীল পরিবহন ব্যবস্থা এবং যাত্রীদের জন্য উন্নত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে-এর ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। শ্রী সুশান্ত চৌধুরী, মাননীয় খাদ্য, অসামরিক সরবরাহ এবং ভোক্তা বিষয়ক, পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী, ত্রিপুরা সরকার; শ্রী রাজীব ভট্টাচার্য, মাননীয় সাংসদ (রাজ্যসভা); শ্রীমতি মিনা রানি সরকার, মাননীয় বিধায়ক-এর মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিদের পাশাপাশি উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের লামডিং ডিভিশনের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন রেলওয়ে কর্তৃপক্ষদের উপস্থিতিতে ফ্ল্যাগিং-অফ অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়।ত্রিপুরা তথা সমগ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রথম মেমু পরিষেবা শুরু হওয়া একটি দ্রুততর, পরিচ্ছন্ন এবং অধিকতর দক্ষ রেলওয়ে সংযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের এক যুগান্তকারী সাফল্য। ডিজেল ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট (ডেমু) ট্রেনের বিপরীতে, মেমু ট্রেন পরিষেবা বৈদ্যুতিক ট্র্যাকশনে চলে, যা এগুলিকে পরিচালন ক্ষেত্রে পরিবেশবান্ধব, শক্তি-সাশ্রয়ী এবং সুলভ করে তোলে। মেমু ট্রেনগুলোর গতিবেগ বৃদ্ধি ও হ্রাসের ক্ষমতা অত্যন্ত উন্নত, যার ফলে স্টেশনগুলোর মধ্যে দ্রুত চলাচল সম্ভব হয় এবং সাব-আরবান ও কম দূরত্বের রুটে সামগ্রিক যাত্রা সময় কমে আসে। এগুলি যাত্রাকে আরও সুগম, কম শব্দ, রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তা হ্রাস এবং যাত্রার সময় শূন্য নির্গমন নিশ্চিত করে; এর ফলে পরিবেশ-বান্ধব ও ধারাবাহিক পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ভারতীয় রেলেওয়ের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে অবদান রাখে।নতুন আগরতলা-করিমগঞ্জ-আগরতলা মেমু ট্রেন পরিষেবাটি ত্রিপুরা এবং অসমের সংলগ্ন অঞ্চলগুলোর মধ্যে যাতায়াতের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য, আরামদায়ক ও অধিক পরিবেশ-বান্ধব মাধ্যম হিসেবে দৈনিক যাত্রী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী এবং পর্যটকদের জন্য অত্যন্ত সুবিধাজনক হবে। উন্নত সংযোগ ব্যবস্থা জনগণদের যাতায়াত সহজতর করবে, প্রতিবেশী রাজ্যগুলোর মধ্যে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক মজবুত করবে এবং আঞ্চলিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে। এই পরিষেবাটি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবীদের যাতায়াত সুবিধাজনক করে স্থানীয় বাণিজ্যকে সহায়তা করবে এবং একই সাথে সড়কপথের তুলনায় রেল পরিবহনের ব্যবহারকে উৎসাহিত করবে। ত্রিপুরা ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রথম মেমু ট্রেন হিসেবে এই অগ্রণী পদক্ষেপটি রেল পরিকাঠামোর রূপান্তর, যাত্রী অভিজ্ঞতার উন্নয়ন এবং আধুনিক, ধারাবাহিক ও গ্রাহক-কেন্দ্রিক রেল পরিষেবার মাধ্যমে এই অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়নে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে-এর দৃষ্টিভঙ্গিকে তুলে ধরে।

About Author

Advertisement