আর সিনেমা পরিচালনা করবেন না মহেশ ভাট

IMG-20260702-WA0081

মুম্বই: দীর্ঘ পাঁচ দশকের বেশি সময় বলিউডের একজন সফল পরিচালক হিসেবে পরিচিতি তৈরি করেছেন মহেশ ভাট। দীর্ঘ কর্মজীবনে প্রায় ৪৭টি চলচ্চিত্র পরিচালনা করেছেন। ‘আশিকি’ থেকে ‘জখম’, ‘দস্তক’, ‘দিল হ্যায় কে মানতা নেহি’র মতো কিছু কালজয়ী ও জনপ্রিয় ছবির নির্মাতা। আগামীতে তাঁর ভাবনায় আর তৈরি হবে না কোনও ছবি। পরিচালক হিসেবে অবসর গ্রহণ করছেন এই প্রবীণ পরিচালক। ৭৭ বছর বয়সী মহেশ ভাট পরিচালক হিসেবে যাত্রা শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ভবিষ্যতে আর কোনও পূর্ণদৈর্ঘ্যের সিনেমা পরিচালনা করবেন না। ব্যক্তিগত অনুভূতি ও সম্পর্কভিত্তিক গল্প বলার জন্যই দর্শকমহলে মহেশ ভাটের একটা আলাদা জনপ্রিয়তা রয়েছে। আচমকা কেন পরিচালনা থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত মহেশের? ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মহেশ ভাট। তাঁর মতে, সাম্প্রতিক সময়ে চলচ্চিত্রের বিষয়বস্তু ও নির্মাণের ধরন আগেভাগেই নির্ধারিত হয়ে যায়। এর ফলে একজন শিল্পীর সৃজনশীল ভূমিকা অনেকটাই সীমিত হয়ে পড়ছে। সম্প্রতি এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন মহেশ। আবার কবে পরিচালনায় ফিরবেন? এই প্রশ্ন করতেই মহেশের সাফ জবাব, তিনি আর কখনও ছবি পরিচালনা করবেন না। প্রবীণ পরিচালক বলেন, “এখন শুধু সিনেমা, আবেগ নিয়ে কথা বলতেই আমার ভালো লাগে।” পরিচালনা থেকে সরে দাঁড়ানোর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “যখন সবকিছু আপনাকে আগে থেকেই বলে দেওয়া হয়, আর নির্দিষ্ট ছকে কনটেন্ট তৈরি করতে হয় তখন একজন শিল্পীর ভূমিকা কোথায়? শিল্পীর স্বাধীনতা তখন অনেকটাই হারিয়ে যায়।” মহেশের সংযোজন, “গল্প বলাই মানবসভ্যতার প্রাণশক্তি। এমন একজন গল্পকার থাকা প্রযোজন যাঁরা প্রথাগত নিয়ম ও একঘেয়েমির বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস দেখাবেন। আজ অ্যালগরিদম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো শুধু সংখ্যার পেছনে ছুটছে এবং নির্মাতাদের একটি নির্দিষ্ট ছাঁচে নিজেদের মানিয়ে নিতে বাধ্য করছে। কিন্তু সেই ছকের বাইরে সবসময়ই এমন কেউ থাকবেন যিনি সাহসিকতার সঙ্গে নতুন পথ দেখাবেন।” ‘ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা’ প্রসঙ্গ টেনে পরিচালক ইমতিয়াজ আলির ভূয়সী প্রশংসা করেন মহেশ ভাট। তিনি বলেন, “সম্প্রতি ইমতিয়াজ আলির ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা আমার দেখা সেরা কাজ। এটা নিয়ে লেখালেখিও করেছি। যখন আপনি অন্তর থেকে কোনও কাজ করেন এবং সময়ের স্পন্দনকে অনুভব করেন তখন মানুষের মধ্যে এমন সংবেদনশীল ও বেদনাময় গল্পের প্রতি একটা অমোঘ আকর্ষণ তৈরি হয়। যা তাঁদের জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে সংযুক্ত। রাত যতই অন্ধকার হোক না কেন কিছু বিদ্রোহী আত্মা সবসময়ই থাকবে যাঁরা গল্প বলার ধারা বদলে দেবে।’’

About Author

Advertisement