নয়াদিল্লি: মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প তিন দিনের চীন সফর শেষ করে শুক্রবার বেইজিং ত্যাগ করেছেন। সফরের শেষ দিনে তিনি চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বেইজিংয়ের সবচেয়ে সুরক্ষিত ও গোপন ক্ষমতাকেন্দ্র ঝোংনানহাই প্রাঙ্গণে দীর্ঘ বৈঠক করেন। বৈঠকের পর ট্রাম্প দাবি করেন, চীনের সঙ্গে একটি ‘অসাধারণ’ বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে, যা দুই দেশের অর্থনীতির জন্যই বড় সুবিধা বয়ে আনবে।
রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং এই সফরকে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে নতুন ও ইতিবাচক কৌশলগত সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।
ঝোংনানহাইয়ের রাজকীয় উদ্যান ঘুরে দেখার সময় দুই নেতা বাণিজ্য শুল্ক, ইরানের পরমাণু ইস্যু এবং তাইওয়ান প্রণালীর স্থিতিশীলতাসহ একাধিক আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। ট্রাম্প জানান, ইরান প্রসঙ্গে তাঁর ও শি জিনপিংয়ের মতামতের মধ্যে যথেষ্ট মিল রয়েছে। যদিও চীনের বিদেশ মন্ত্রক সংঘাত এড়িয়ে শান্তি বজায় রাখার উপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।
কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি সফরে দুই নেতার ব্যক্তিগত সম্পর্কও বিশেষভাবে আলোচনায় উঠে আসে। ট্রাম্প শি জিনপিংকে তাঁর ‘প্রকৃত বন্ধু’ বলে উল্লেখ করে জানান, তাঁরা একসঙ্গে এমন বহু সমস্যার সমাধান খুঁজে পেয়েছেন যা আগে অসম্ভব বলে মনে হতো। অন্যদিকে বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে শি জিনপিং ট্রাম্পকে চীনা গোলাপের বীজ উপহার দেওয়ার ঘোষণা করেন। তবে বেইজিংয়ের সাধারণ মানুষের মধ্যে ট্রাম্পের ভাবমূর্তি এক ‘অপ্রত্যাশিত’ নেতা হিসেবেই প্রতিফলিত হয়েছে, যার পরবর্তী পদক্ষেপ অনুমান করা কঠিন বলে মনে করা হয়।
সফরের সমাপ্তিতে ট্রাম্প ঘোষণা করেন, রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর আমেরিকা সফরে যাবেন। বেইজিং রাজধানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রাম্পকে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানো হয়, যেখানে চীনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই তাঁকে বিদায় জানান। বিমানবাহিনীর বিশেষ বিমানে ওঠার আগে ট্রাম্প হাত নেড়ে বেইজিংকে বিদায় জানান। সেই সময় স্কুলপড়ুয়া শিশুরা দুই দেশের পতাকা নেড়ে তাঁকে শুভেচ্ছা জানায়।










