ইম্ফল(দেবেন্দ্র কিশোর): ভারতের উত্তর–পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুর আবারও হিংসা ও অস্থিরতা নিয়ে উদ্বেগের কেন্দ্রে উঠে এসেছে। চুরাচাঁদপুর এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী কুকি ন্যাশনাল আর্মি (বার্মা)-র সঙ্গে যুক্ত এক সক্রিয় জঙ্গিকে গ্রেফতার করে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করেছে। এর ফলে রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আবারও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। অভিযুক্তের কাছ থেকে ৯ এমএম পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন এবং সাত রাউন্ড গুলি উদ্ধার হওয়া শুধুমাত্র একটি সাধারণ অপরাধমূলক ঘটনা নয়, বরং সীমান্তপারের জঙ্গি নেটওয়ার্ক এখনও সক্রিয় এবং শক্তিশালী হয়ে উঠছে—তারই ইঙ্গিত বলে মনে করা হচ্ছে।
গত কয়েক বছরে মণিপুর জাতিগত সংঘাত, রাজনৈতিক অবিশ্বাস এবং দুর্বল প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের কারণে ক্রমাগত অশান্তির মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে বিদেশি গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত সশস্ত্র কার্যকলাপ বৃদ্ধি স্থানীয় নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এন. বীরেন সিং এই ঘটনাকে “উপেক্ষা করা যায় না এমন গুরুতর বিষয়” বলে উল্লেখ করায় রাজ্যের ক্রমবর্ধমান অনিরাপত্তা ও সন্ত্রাস নিয়ে গভীর উদ্বেগ স্পষ্ট হয়েছে।
তবে প্রশ্ন শুধু জঙ্গি সংগঠনের উপস্থিতি নিয়েই সীমাবদ্ধ নয়। রাজ্য সরকার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতাও সমালোচনার মুখে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা হিংসাত্মক ঘটনার মধ্যে কার্যকর রাজনৈতিক সংলাপ, সীমান্ত নজরদারি এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বিশ্বাস পুনর্গঠনে সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠছে।
যদি এই ধরনের ঘটনাকে শুধুমাত্র গ্রেফতার ও অস্ত্র উদ্ধারের সাফল্য হিসেবেই দেখা হয়, তবে মণিপুরের সংকট আরও গভীর হতে পারে। স্থায়ী সমাধানের জন্য কঠোর নিরাপত্তা কৌশলের পাশাপাশি রাজনৈতিক ঐক্যমত, সামাজিক সম্প্রীতি এবং সীমান্তপারের কার্যকলাপের ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জরুরি।










