‎জ্বালানির দামের উল্লম্ফন, সীমান্তে নেপালি গাড়িকে তেল দেওয়া বন্ধ করল ভারতীয় পাম্পগুলি‎‎

IMG-20260426-WA0061

ভদ্রপুর: নেপালে পেট্রোলিয়াম পণ্যের দামে নজিরবিহীন বৃদ্ধির ফলে সীমান্তবর্তী এলাকায় নতুন সঙ্কটের সৃষ্টি হয়েছে। নেপাল অয়েল কর্পোরেশনের সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির পর কাঠমান্ডুসহ প্রধান শহরগুলিতে পেট্রোলের দাম লিটার প্রতি ২১৯ টাকা এবং ডিজেলের দাম ২০৭ টাকায় পৌঁছেছে।‎দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে নেপালে জ্বালানির দাম সর্বোচ্চ হওয়ায় ভারত ও নেপালের মধ্যে মূল্য ব্যবধান ব্যাপক বেড়েছে। এর ফলে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও কালোবাজারির আশঙ্কা বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে বিহার প্রশাসন সীমান্তবর্তী জেলাগুলির পেট্রোল পাম্পে নেপালি নম্বরপ্লেটযুক্ত গাড়িতে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।‎বিহারের আরারিয়া, কিশনগঞ্জ ও পূর্ণিয়া জেলায় এই নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে কার্যকর করা হয়েছে। ভারতে জ্বালানির দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় নেপালের গাড়িগুলি সীমান্ত পার হয়ে তেল ভরার প্রবণতা বেড়ে গিয়েছিল। তা রুখতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।‎প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্যালন বা বোতলে করে জ্বালানি নিয়ে যাওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। শুধুমাত্র জরুরি পরিস্থিতিতে সীমিত পরিমাণে জ্বালানি দেওয়া হতে পারে।‎গত এক মাসে নেপালে চার দফায় জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে পরিবহন খরচ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিকে এই মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।‎এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছে এবং বিরোধী দলগুলি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেছে। সীমান্তে চোরাচালান রুখতে দুই দেশের নিরাপত্তা বাহিনী টহল বাড়িয়েছে।‎অন্যদিকে, ভারতীয় পাম্পে নেপালি গাড়ির উপর নিষেধাজ্ঞা জারির পর নেপালের সীমান্তবর্তী পাম্পগুলিতে চাপ বেড়েছে, ফলে আগামী দিনে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা আরও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

About Author

Advertisement