কাঠমান্ডু: নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ দেশের কূটনৈতিক দিক পরিবর্তন করে নতুন পররাষ্ট্রনীতি ঘোষণা করেছেন। এই নীতিতে “নেপাল প্রথম, নেপালি প্রথম” মূল নীতি হিসেবে সর্বোচ্চ গুরুত্ব পেয়েছে।
নতুন এই নীতি অনুযায়ী, নেপালকে পূর্বের মতো শুধুমাত্র দুটি প্রতিবেশী শক্তির মাঝে ‘বাফার স্টেট’ হিসেবে না দেখে বরং একটি সক্রিয় ‘সেতু রাষ্ট্র’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, এর মাধ্যমে নেপাল ভারত ও চীনের সঙ্গে ত্রিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও যোগাযোগ বৃদ্ধি করে জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষিত করবে। একই সঙ্গে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে নেপাল কোনো সামরিক জোটের অংশ হবে না এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও জোটনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে অবস্থান বজায় রাখবে।
নতুন নীতির মূল দিকসমূহ
নতুন নীতির আওতায় ভারত ও চীনের সঙ্গে “সমান দূরত্ব ও সমান ঘনিষ্ঠতা” বজায় রাখার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশে অবস্থিত নেপালি দূতাবাসগুলোর কার্যকারিতা মূল্যায়নের জন্য একটি বৈজ্ঞানিক ‘পারফরম্যান্স অডিট’ ব্যবস্থা চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তন, হিমালয় সংরক্ষণ এবং পার্বত্য অঞ্চলের অভিন্ন স্বার্থ নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেপালের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকার আরও জানিয়েছে, বিদেশে কর্মরত নেপালি শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও অধিকারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
এই নতুন পররাষ্ট্রনীতি নেপালের কূটনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অবস্থানকে নতুন দিশা দিতে পারে।









