নিউইয়র্ক: ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ ঘিরে সারা বিশ্বজুড়ে অভূতপূর্ব উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে। ফিফার মতে, মাত্র এক মাসে ৫০০ মিলিয়ন (৫০ কোটি) টিকিটের আবেদন জমা পড়েছে। এই সংখ্যা নিজেই একটি রেকর্ড এবং এটি প্রমাণ করে যে আজও বিশ্বকাপ নিয়ে মানুষের মধ্যে কতটা প্রবল উন্মাদনা রয়েছে।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেন, “মাত্র এক মাসে ৫০ কোটি টিকিটের জন্য আবেদন আসা চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি। এটি একটি বৈশ্বিক বার্তা। আমাদের একমাত্র আক্ষেপ হলো, আমরা প্রতিটি সমর্থককে স্টেডিয়ামে জায়গা দিতে পারছি না।” টিকিটের আবেদন ফিফার সব ২১১টি সদস্য দেশ থেকেই এসেছে। আয়োজক দেশগুলি (যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা) বাদ দিলে সর্বাধিক চাহিদা এসেছে জার্মানি, ইংল্যান্ড, ব্রাজিল, স্পেন, পর্তুগাল, আর্জেন্টিনা ও কলম্বিয়া থেকে।
সবচেয়ে বেশি টিকিটের আবেদন এসেছে কলম্বিয়া ও পর্তুগালের মধ্যকার ম্যাচের জন্য, যা ২৭ জুন মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত হবে। এর পরে মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ কোরিয়া (গুয়াদালাহারা, ১৮ জুন) এবং ফাইনাল ম্যাচ (নিউ জার্সি, ১৯ জুলাই) ঘিরেও বিপুল চাহিদা লক্ষ্য করা গেছে। লটারির ফলাফল ৫ ফেব্রুয়ারির আগে ঘোষণা করা হবে না।
সমর্থকদের ব্যাপক উচ্ছ্বাসের মধ্যেই টিকিটের দামের বিষয়টি নিয়ে বিতর্কও সৃষ্টি হয়েছে। বহু ইউরোপীয় সমর্থক টিকিটের মূল্য অত্যন্ত বেশি বলে অভিযোগ করেছেন। ‘ফুটবল সাপোর্টার্স ইউরোপ’-এর মতে, কাতার বিশ্বকাপ ২০২২-এর তুলনায় এবার টিকিটের দাম প্রায় পাঁচ গুণ বেশি। সমালোচনার পর ফিফা ডিসেম্বর মাসে ৬০ ডলারের একটি নতুন লো-কস্ট ক্যাটাগরি চালু করেছে।
উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি উদ্বেগও বাড়ছে। মার্কিন শহরগুলিতে রাজনৈতিক উত্তেজনা, গুলিবর্ষণের ঘটনা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আশঙ্কা সমর্থকদের নিরুৎসাহিত করছে। ‘রোয়া নিউজ’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৬,৮০০ জন সমর্থক হঠাৎ করেই টিকিট প্রক্রিয়া থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছেন, যাদের অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বয়কট অভিযানে সমর্থন জানিয়েছেন। বহু বিদেশি সমর্থক নিরাপত্তা ও সম্ভাব্য অশান্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মিনিয়াপোলিসে আইসিই-সংক্রান্ত গুলিবর্ষণের ঘটনায় সমর্থকরা আরও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ বহু দিক থেকেই ঐতিহাসিক হতে চলেছে। এই প্রথম টুর্নামেন্টটি ৪৮টি দলের ফরম্যাটে অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি, এই প্রথম ফিফা বিশ্বকাপের আয়োজন যৌথভাবে তিনটি দেশ- যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো করে থাকবে। তবুও ইউরোপ, দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার বহু সমর্থক এখন তাঁদের ভ্রমণ পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে ভাবছেন।
সমর্থকদের মধ্যে বাড়তে থাকা উদ্বেগের কথা মাথায় রেখে ফিফা চলতি সপ্তাহে একটি জরুরি বৈঠক ডাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই বৈঠকে নিরাপত্তা প্রোটোকল, টিকিট ফেরত এবং সমর্থক স্থানান্তর সংক্রান্ত বিষয়গুলি প্রধান আলোচ্য হবে। পাশাপাশি, এই পরিস্থিতির ফলে টুর্নামেন্টের সুনামের ওপর কী প্রভাব পড়তে পারে, সে বিষয়েও আলোচনা করা হবে।









