নয়াদিল্লি: ২০২৬ এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতি ও আয়োজন নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। ক্রীড়াবিদ ও কর্মকর্তার সংখ্যা আনুমানিক হিসাব ছাড়িয়ে প্রায় ১৭ হাজারে পৌঁছেছে, যা তাঁদের আবাসনের ব্যবস্থা করার ক্ষেত্রে আয়োজকদের জন্য বড় এক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জাপানের আইচি-নাগোয়ায় ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত এশিয়ান গেমস অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, এতে প্রায় ১৫,০০০ ক্রীড়াবিদ ও কর্মকর্তার অংশগ্রহণের কথা ছিল। তবে টেকবল ও প্যাডেলের মতো নতুন খেলাগুলো অন্তর্ভুক্ত করার ফলে এই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ১৭,০০০-এ (প্রায় ১১,০০০ ক্রীড়াবিদ ও ৬,০০০ কর্মকর্তা) দাঁড়িয়েছে। আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান হিদেকি ওমুরা স্পষ্ট করেছেন যে, চুক্তিটি ১৫,০০০ মানুষের ধারণক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছিল; তাই অতিরিক্ত অংশগ্রহণকারীদের জন্য কোনো বাড়তি বাজেট নেই। তিনি আরও জানান যে, আয়োজকদের কাছে পর্যাপ্ত আবাসন ব্যবস্থা নেই, যার অর্থ হলো অতিরিক্ত অংশগ্রহণকারীদের নিজেদের থাকার ব্যবস্থা নিজেদেরই করতে হবে। নাগোয়ার মেয়র ইচিরো হিরাসাওয়াও স্বীকার করেছেন যে, সীমিত বাজেটের মধ্যে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় আবাসন ব্যবস্থাপনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ক্রুজ শিপ ও কন্টেইনার ব্যবহার করে অস্থায়ী আবাসন ব্যবস্থা
অলিম্পিকের প্রচলিত পদ্ধতির বিপরীতে, এবারের এশিয়ান গেমসের জন্য আলাদা কোনো ‘অ্যাথলেটস ভিলেজ’ বা ক্রীড়াবিদদের গ্রাম নির্মাণ করা হয়নি। ক্রীড়াবিদ ও কর্মকর্তাদের আবাসনের জন্য হোটেল, ক্রুজ শিপ এবং কন্টেইনার দিয়ে তৈরি অস্থায়ী আবাসন ইউনিট ব্যবহার করা হচ্ছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানের স্থানে নোঙর করা একটি ইতালীয় প্রমোদতরীতে প্রায় ৪,০০০ থেকে ৫,০০০ ক্রীড়াবিদের থাকার ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি, প্রায় ২,০০০ ক্রীড়াবিদের জন্য কন্টেইনার-ভিত্তিক অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। বাকি প্রতিযোগীদের বিভিন্ন হোটেলে রাখা হবে। সাঁতার, ডাইভিং এবং অশ্বারোহী খেলার মতো কিছু প্রতিযোগিতা নাগোয়ার পরিবর্তে টোকিওতে অনুষ্ঠিত হবে। আবাসন সংকটের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে, স্থানীয় আয়োজক কমিটি অলিম্পিক কাউন্সিল অফ এশিয়া (ওসিএ)-র কাছে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা কমানোর অনুরোধ জানিয়েছে। নতুন নির্মিত এই পিচে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা খুবই সীমিত। পিচের মান নিয়ে উদ্বেগের কারণে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) একটি দল সম্ভবত এই ভেন্যুটি পরিদর্শন করবে। এছাড়া জানা গেছে যে, এই মাঠে খেলোয়াড়দের জন্য উপযুক্ত ড্রেসিং রুমের সুবিধাও নেই। তবে, চলতি বছরের মে মাসে এই ভেন্যুতেই আইসিসি পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পূর্ব এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বাছাইপর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
এসবের পাশাপাশি, ক্রিকেট দলগুলোর আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে কোরোগাই স্পোর্টস পার্ক থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে, যা খেলোয়াড়দের যাতায়াতের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।





