নয়াদিল্লি: যখন ঋণ বা ধার-সম্পর্কিত তথ্যের নজরদারি দৈনন্দিন আর্থিক আচরণের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠছে, তখন ভারত সক্রিয় ও সচেতন ‘ঋণ-স্বত্ব’ প্রতিষ্ঠার এক নতুন যুগে প্রবেশ করছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনের মতে, যা একসময় মূলত ঋণ-সংক্রান্ত একটি তাৎক্ষণিক ও বিচ্ছিন্ন কার্যকলাপ ছিল, তা এখন গ্রাহক-নির্ভর একটি নিয়মিত অভ্যাসে এবং ‘আর্থিক পরিচ্ছন্নতা’ বা সুস্থ আর্থিক অবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদানে পরিণত হচ্ছে।
প্রতিবেদনটিতে ভারতে ঋণ-সংক্রান্ত আচরণে একটি মৌলিক পরিবর্তনের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে—যেখানে মানুষ কেবল ‘নিষ্ক্রিয় সচেতনতা’ থেকে এগিয়ে এসে ‘সক্রিয় মালিকানা’-র দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ঋণযোগ্যতার অবস্থার পর্যবেক্ষণ এখন আর শুধু ঋণ নেওয়ার একটি মাধ্যম নয়; বরং এটি আত্মসচেতনতা, আর্থিক শৃঙ্খলা এবং ক্ষমতায়নের একটি কার্যকর উপায়ে পরিণত হয়েছে।
২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন বয়সের যে ভারতীয়রা নিজেরাই তাদের ঋণযোগ্যতার স্কোর পর্যবেক্ষণ করেছেন, তাদের সংখ্যা বেড়ে ১৮৩ মিলিয়নে পৌঁছেছে। এর প্রধান কারণ হল, প্রথমবার নিজেদের ঋণ বা ধার-সংক্রান্ত অবস্থার পর্যবেক্ষণকারী গ্রাহকদের সংখ্যায় বছরে বছরে ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি। এই প্রবণতা ইঙ্গিত দেয় যে একটি মৌলিক আর্থিক অভ্যাস হিসেবে ‘ঋণ-সচেতনতা’ দ্রুত বৃহত্তর পরিসরে ছড়িয়ে পড়ছে এবং ক্রমেই গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে।
গ্রাহকদের দ্বারা নিয়মিত নিজেদের ঋণযোগ্যতার স্কোর পর্যবেক্ষণের ইতিবাচক প্রভাব তাদের আর্থিক ফলাফলেই স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। যারা নিয়মিত তাদের ঋণ-সংক্রান্ত অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেছেন, তাদের মধ্যে প্রায় ৪৫ শতাংশই পর্যবেক্ষণ শুরু করার ছয় মাসের মধ্যে নিজেদের স্কোরের উন্নতি ঘটাতে সক্ষম হয়েছেন। নিয়মিত পর্যবেক্ষণকারী গ্রাহকদের গড় স্কোর ছিল ৭২৮, যা সক্রিয় পর্যবেক্ষণ এবং একটি সুস্থ ঋণ-প্রোফাইলের মধ্যে গভীর সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়।
ঋণ-সংক্রান্ত অবস্থার পর্যবেক্ষণ যখন একটি বিচ্ছিন্ন কার্যকলাপ থেকে বেরিয়ে একটি নিয়মিত আর্থিক অভ্যাসে পরিণত হয়েছে, তখন তা গ্রাহকদের জন্য উন্নত আর্থিক ফলাফলের পথও প্রশস্ত করেছে। এই পরিবর্তনের অগ্রভাগে রয়েছেন তরুণ ঋণগ্রহীতারা, যেমন নতুন প্রজন্মের যুবসমাজ, নারী ঋণগ্রহীতা এবং দেশের অ-মহানগর বা ছোট শহর ও গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দারা।
এই প্রসঙ্গে সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ভবেশ জৈন বলেন, “ঐতিহাসিকভাবে বহু গ্রাহকই তাদের ঋণ-প্রোফাইল সম্পর্কে খোঁজ নিতেন কেবল তখনই, যখন তাদের ব্যক্তিগত ঋণ বা ঋণপত্রের মতো কোনো আর্থিক পণ্যের প্রয়োজন হত। কিন্তু এখন ঋণ-সংক্রান্ত অবস্থার পর্যবেক্ষণ আর কেবল কোনো একক লেনদেনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়; বরং এটি একটি চলমান ‘আর্থিক পরিচ্ছন্নতা’ বজায় রাখার প্রক্রিয়া হিসেবে ব্যাপক স্বীকৃতি পাচ্ছে।
গ্রাহকদের মনোযোগ এখন কেবল ঋণভিত্তিক লেনদেনের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সরে এসে একটি শক্তিশালী ও সুসংহত ঋণ-প্রোফাইল গড়ে তোলার দিকে কেন্দ্রীভূত হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, ভারত এখন শুধু ঋণ গ্রহণকারী একটি দেশ নয়; বরং নিজেদের ঋণের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও মালিকানা প্রতিষ্ঠাকারী একটি দেশে রূপান্তরিত হচ্ছে। এই পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি হল ঋণ-পর্যবেক্ষণ—যা ঋণযোগ্যতার স্কোরকে একটি সাধারণ স্থির সংখ্যা থেকে পরিবর্তন করে আর্থিক সুস্বাস্থ্যের একটি জীবন্ত সূচকে পরিণত করেছে। গ্রাহকরা এখন সক্রিয়ভাবে এই সূচকটি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং এর উন্নতির জন্য সচেষ্ট হচ্ছেন।”









