সানা: ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা দাবি করেছে, তারা সৌদি আরবের ইউরোফাইটার টাইফুন যুদ্ধবিমানকে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার সাহায্যে নিশানা করেছে। হুথিদের দাবি অনুযায়ী, ইয়েমেনের সাদা প্রদেশের আকাশে এই ঘটনা ঘটেছে। তবে বিমানটি ভূপাতিত হয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। এমনকি বিমানের ধ্বংসাবশেষ পাওয়ার বিষয়েও কোনো তথ্য সামনে আসেনি। সৌদি আরবের কর্তৃপক্ষও এখনও পর্যন্ত এই দাবি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
হুথি সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, সৌদি আরবের এই যুদ্ধবিমানটি তাইফ বিমানঘাঁটি থেকে উড়ে ইয়েমেনের বিভিন্ন শহরে বিমান হামলা চালাচ্ছিল। সেই সময় সাদা প্রদেশের আকাশে বিমানটিকে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে নিশানা করা হয়। হুথিদের বক্তব্য, ক্ষেপণাস্ত্রটি সরাসরি বিমানটিতে আঘাত হানে। তবে বিমানটি ভেঙে পড়েছে, নাকি নিরাপদে ফিরে যেতে সক্ষম হয়েছে, তা নিশ্চিত করা যায়নি।
সানায় বিমান হামলার পর হুথিদের দাবি
ইয়েমেনের সাবা সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ভোরে সৌদি আরবের যুদ্ধবিমানগুলি ইয়েমেনের রাজধানী সানায় বিমান হামলা চালায়। এর কিছুক্ষণ পরেই হুথি সশস্ত্র বাহিনী দাবি করে, সাদা প্রদেশের আকাশে সৌদি আরবের ইউরোফাইটার টাইফুন যুদ্ধবিমানকে নিশানা করা হয়েছে।
হুথি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এই পদক্ষেপকে সৌদি আরবের বিমান হামলার জবাবে নেওয়া ব্যবস্থা বলে বর্ণনা করেছেন। তবে বিমানটি ধ্বংস হয়েছে বা ভেঙে পড়েছে, এমন কোনো স্বাধীন প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি। তাই আপাতত এই ঘটনাকে হুথিদের দাবি হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত।
ইয়েমেন ও সৌদি আরবের মধ্যে বাড়ছে উত্তেজনা
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী ও সৌদি আরবের মধ্যে উত্তেজনা আবারও বাড়তে দেখা যাচ্ছে। এর আগেও হুথিরা সৌদি আরবের সামরিক ঘাঁটি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও চালকবিহীন আকাশযানের মাধ্যমে হামলা চালানোর দাবি করেছে। অন্যদিকে, সৌদি আরবও ইয়েমেনে হুথিদের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে।
হুথি মুখপাত্রের দাবি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বিমান হামলার পর সৌদি আরবকে কঠোর পাল্টা পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। হুথিরা সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনাগুলিকে নিশানা করার হুমকিও দিয়েছে। তবে এ ধরনের দাবি ও হুমকির সত্যতা সংশ্লিষ্ট পক্ষ এবং স্বাধীন সূত্রের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি।
রিয়াদ বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় হামলার দাবি
হুথি সশস্ত্র বাহিনী এর আগে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে নিশানা করার দাবি করেছিল। সৌদি আরবের তেল সংস্থা আরামকোকে নিশানা করার কথাও জানিয়েছে হুথিরা। তবে এসব ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি এবং ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
ইয়াহিয়া সারি বলেছেন, সৌদি আরবের অভ্যন্তরে সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনাগুলিকেও নিশানা করা হতে পারে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক পরিবহণ সংস্থাগুলিকেও সতর্ক করে সংশ্লিষ্ট এলাকায় কর্মরত কর্মী ও সাধারণ নাগরিকদের সেখান থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সৌদি আরবের টাইফুন যুদ্ধবিমান কি সত্যিই ভূপাতিত হয়েছে?
এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে সৌদি আরবের ইউরোফাইটার টাইফুন যুদ্ধবিমানটি সত্যিই ভূপাতিত হয়েছে কি না। এখনও পর্যন্ত বিমানের ধ্বংসাবশেষ, পাইলটের অবস্থা কিংবা সৌদি আরবের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি সম্পর্কে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য সামনে আসেনি।
এর আগে সেপ্টেম্বর মাসেও হুথিরা সৌদি আরবের একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছিল। তবে বর্তমান ঘটনাতেও দাবি ও যাচাই করা তথ্যের মধ্যে পার্থক্য রাখা জরুরি।
যদি যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়, তাহলে ইয়েমেন ও সৌদি আরবের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা আরও তীব্র হতে পারে। আপাতত ইউরোফাইটার টাইফুনে হামলার খবরটিকে অপ্রমাণিত দাবি হিসেবেই উপস্থাপন করা যুক্তিযুক্ত।





