স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রভাত মুখরিত হয়েছিল ‘বন্দে মাতরম্’ ধ্বনিতে
কলকাতা: ১৯৪৭ সালের ১৫ই আগস্টের সেই ঐতিহাসিক মধ্যরাতে—যখন দেশ স্বাধীনতার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে—দিল্লির সংসদ ভবনের সেন্ট্রাল হলে ধ্বনিত হয়েছিল ‘সঙ্গীত মার্তণ্ড’ পণ্ডিত ওঙ্কারনাথ ঠাকুরের দিব্য কণ্ঠস্বর।
জওহরলাল নেহরুর সেই বিখ্যাত ভাষণের আগেই সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের বিশেষ অনুরোধে তিনি মাদ্রাজ থেকে দিল্লিতে এসেছিলেন।
পণ্ডিত ওঙ্কারনাথ (১৮৯৭–১৯৬৭) একটি শর্তে অটল ছিলেন: তিনি ‘বন্দে মাতরম্’ গানটি খণ্ডিত বা সংক্ষিপ্ত আকারে নয়, বরং সম্পূর্ণ রূপেই গাইবেন। তাঁর এই অবস্থানের মূলে ছিল তাঁর গুরু পণ্ডিত বিষ্ণু দিগম্বর পলুসকরের মনে জমে থাকা গভীর বেদনা। সেই ঐতিহাসিক রাতে তিনি ‘বেঙ্গলি কাফি’ রাগে গানটি পরিবেশন করেন এবং সারঙ্গী বাদনে তাঁকে সঙ্গ দেন পণ্ডিত রাম নারায়ণ।
১৮৭৫ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক রচিত এই গানটি ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী আন্দোলনের সময় স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম প্রধান সংগীতে পরিণত হয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, হীরাবাই বরোদেকর, এম.এস. সুব্বুলক্ষ্মী এবং লতা মঙ্গেশকরের মতো প্রখ্যাত শিল্পীরা বিভিন্ন রাগে গানটি পরিবেশন করে একে অমর করে রেখেছেন। আজও ‘বন্দে মাতরম’ ভারতের ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐক্যের এক জীবন্ত ঐতিহ্য হিসেবে টিকে আছে।










