কলকাতা: ভারতের অন্যতম প্রধান স্বতন্ত্র স্বাস্থ্যবিমা সংস্থা স্টার হেলথ অ্যান্ড অ্যালায়েড ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড কলকাতা ও দুর্গাপুরের নির্বাচিত দুর্গাপুজো মণ্ডপগুলিতে ‘বিশ্রাম গৃহ’ পরিষেবা চালুর ঘোষণা করেছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য, পুজো দেখতে আসা মানুষদের বিশ্রাম নেওয়া, ক্লান্তি দূর করা এবং স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া। এই বিশ্রাম গৃহগুলিতে সংস্পর্শহীন প্রযুক্তির মাধ্যমে ফেস স্ক্যান করে স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থাও থাকবে।
দুর্গাপুজোর সময় এক দিনে একাধিক পুজো মণ্ডপ ঘুরে দেখতে গিয়ে অনেকেই ক্লান্ত হয়ে পড়েন। সেই কথা মাথায় রেখে সংস্থাটি আরামদায়ক বিশ্রামস্থল তৈরি করেছে। সেখানে দর্শনার্থীরা কিছুক্ষণ বসে বিশ্রাম নিতে পারবেন এবং চা, জল-সহ বিভিন্ন পানীয় পান করতে পারবেন। এরপর তাঁরা আবার পুজো পরিক্রমা শুরু করতে পারবেন।
ফেস স্ক্যানের মাধ্যমে ১৭টি স্বাস্থ্য সূচকের প্রাথমিক তথ্য
বিশ্রাম গৃহের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হল ফেস স্ক্যান-ভিত্তিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার কিয়স্ক। মুখে কোনও রকম স্পর্শ ছাড়াই স্ক্যানের মাধ্যমে প্রায় ১৭টি স্বাস্থ্য সূচকের তাৎক্ষণিক প্রাথমিক রিপোর্ট পাওয়া যাবে। এর মধ্যে রয়েছে হৃদ্স্পন্দনের হার, শ্বাস-প্রশ্বাসের হার, মানসিক চাপের সূচক এবং হৃদ্স্পন্দনের পরিবর্তনশীলতা (এইচআরভি)-র মতো গুরুত্বপূর্ণ সূচক।
এই ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হল মানুষকে তাঁদের স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ সূচকগুলি সম্পর্কে সচেতন করা। তবে এই পরীক্ষা প্রাথমিক পর্যায়ের এবং একে চিকিৎসকের পরামর্শ বা পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা পরীক্ষার বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।
১৬ থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত মিলবে পরিষেবা
স্টার হেলথ কলকাতায় দুটি এবং দুর্গাপুরে একটি—মোট তিনটি বিশ্রাম গৃহ চালু করবে। ২০২৬ সালের ১৬ থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত নিম্নলিখিত দুর্গাপুজো মণ্ডপগুলিতে এই পরিষেবা পাওয়া যাবে।
- বাগবাজার সর্বজনীন দুর্গোৎসব প্রদর্শনী, কলকাতা
- ২২ পল্লি শারদোৎসব, নর্দার্ন পার্ক, কলকাতা
- মার্কনি দক্ষিণা পল্লি, দুর্গাপুর
প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে এই বিশ্রাম গৃহগুলি চালু থাকবে।
উৎসবের সঙ্গে স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ
স্টার হেলথ ইনস্যুরেন্সের পূর্ণকালীন ডিরেক্টর ও চিফ মার্কেটিং অফিসার হিমাংশু ওয়ালিয়া বলেন, দুর্গাপুজো বাংলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসব এবং পুজো মণ্ডপ পরিদর্শন এই উৎসবের অবিচ্ছেদ্য অংশ। হাজার হাজার মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিভিন্ন মণ্ডপ ঘুরে দেখেন। তাই তাঁদের বিশ্রাম নেওয়া ও ক্লান্তি দূর করার জন্য একটি আরামদায়ক জায়গা তৈরি করার উদ্দেশ্যেই এই বিশ্রাম গৃহের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্রাম গৃহের সঙ্গে ফেস স্ক্যান-ভিত্তিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা যুক্ত করার উদ্দেশ্য হল মানুষকে স্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ সূচকগুলি সম্পর্কে সচেতন করা। উৎসবের সময় আরামদায়ক অভিজ্ঞতা দেওয়ার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতেও সংস্থাটি উদ্যোগী হয়েছে।
স্টার হেলথ ইনস্যুরেন্সের পশ্চিমবঙ্গ ব্যবসার প্রধান অতীন রায় বলেন, দুর্গাপুজোর সময় পরিবার-সহ বহু মানুষ বিভিন্ন পুজো মণ্ডপ ঘুরে দেখতে দীর্ঘ সময় ব্যয় করেন। তাঁদের প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখেই বিশ্রাম গৃহগুলি তৈরি করা হয়েছে, যাতে তাঁরা কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে আবার নতুন উদ্যমে পুজো পরিক্রমা চালিয়ে যেতে পারেন।
তিনি জানান, এই কেন্দ্রগুলিতে বিনামূল্যে ফেস স্ক্যানের মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরীক্ষার সুবিধাও পাওয়া যাবে। এর সাহায্যে প্রায় ১৭টি স্বাস্থ্য সূচকের প্রাথমিক তথ্য জানা সম্ভব হবে। কলকাতা ও দুর্গাপুরের গুরুত্বপূর্ণ পুজো মণ্ডপগুলিতে এই পরিষেবা চালুর মাধ্যমে উৎসবের অভিজ্ঞতায় বিশ্রাম ও স্বাস্থ্য সচেতনতাকে আরও গুরুত্ব দেওয়াই সংস্থার লক্ষ্য।
পুজো পরিক্রমায় সতর্ক থাকার পরামর্শ
স্টার হেলথ কলকাতা ও দুর্গাপুরের পুজো মণ্ডপগুলিতে ঘুরতে যাওয়া দর্শনার্থীদের, বিশেষত প্রবীণ নাগরিক এবং ছোট শিশুদের সঙ্গে আসা পরিবারগুলিকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
সংস্থার পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত জল পান করা, এক মণ্ডপ থেকে অন্য মণ্ডপে যাওয়ার মাঝে নিয়মিত বিরতি নেওয়া, আরামদায়ক জুতো পরা এবং কোনও শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
সংস্থার মতে, ‘বিশ্রাম গৃহ’ উদ্যোগের মাধ্যমে দুর্গাপুজোর আনন্দের সঙ্গে শারীরিক বিশ্রাম ও স্বাস্থ্য সচেতনতাকে একসূত্রে যুক্ত করা হয়েছে। এই ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগের মাধ্যমে স্টার হেলথ মানুষের মধ্যে নিজেদের সামগ্রিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এবং রোগ প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্য পরিচর্যার গুরুত্ব তুলে ধরতে চায়।





