সোনম ওয়াংচুকের অনশনের তৃতীয় সপ্তাহ

sonam-wangchuk

দিল্লির তিনটি হাসপাতালকে সতর্কাবস্থায় রাখল কেন্দ্রীয় সরকার

নয়াদিল্লি: লাদাখের জন্য বিশেষ সাংবিধানিক সুরক্ষার দাবিতে পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকের অনশন কর্মসূচি এখন তৃতীয় সপ্তাহে পদার্পণ করেছে। তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার তৎপরতা বাড়িয়েছে এবং দিল্লির তিনটি প্রধান সরকারি হাসপাতালকে সতর্কাবস্থায় থাকার নির্দেশ দিয়েছে।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক ডঃ রাম মনোহর লোহিয়া (আরএমএল) হাসপাতাল, সফদরজং হাসপাতাল এবং লেডি হার্ডিঞ্জ মেডিকেল কলেজের মেডিকেল টিমগুলিকে নির্দেশ দিয়েছে যেন তারা যন্তর মন্তরে অনশনরত সোনম ওয়াংচুক এবং অন্যান্য আন্দোলনকারীদের দিনে দুবার নিবিড় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে।
কর্মকর্তাদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী অনশন কর্মসূচির ফলে আন্দোলনকারীদের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটপূর্ণ বা ‘সীমান্তবর্তী পর্যায়ে’ (borderline condition) পৌঁছেছে; এর ফলে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ হঠাৎ অকার্যকর হয়ে পড়ার মতো গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য আরএমএল হাসপাতালকে নোডাল সেন্টার হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, তিনটি হাসপাতাল পালাক্রমে প্রতিদিন সকাল ৯টা ও রাত ৯টায় আন্দোলনকারীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবে।
​ পাশাপাশি, অনশনস্থলে সার্বক্ষণিক নার্সিং কর্মী মোতায়েন নিশ্চিত করা হয়েছে এবং যেকোনো জরুরি চিকিৎসাজনিত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য দুটি ‘অ্যাডভান্সড লাইফ সাপোর্ট’ অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
চিকিৎসক দলের তথ্য অনুযায়ী, অনশন শুরুর পর থেকে সোনম ওয়াংচুকের ওজন ৯ কেজিরও বেশি কমেছে এবং বর্তমানে তাঁর ওজন ৫৬.৯ কেজি রেকর্ড করা হয়েছে। স্বাস্থ্য পরীক্ষায় দেখা গেছে, তাঁর রক্তে শর্করার মাত্রা ৮০ মিগ্রা/ডেসিলিটার এবং নাড়ির গতি প্রতি মিনিটে ৭২ বার; এছাড়া রক্তচাপ শোয়া অবস্থায় ১০৫/৬১ মিমি পারদ এবং বসা অবস্থায় ১০১/৬৫ মিমি পারদ পাওয়া গেছে।
​ চিকিৎসকরা জানিয়েছেন যে, যদিও তিনি মানসিকভাবে সম্পূর্ণ সজাগ এবং তাঁর শরীরে পানিশূন্যতা নেই, তবুও তাঁর শারীরিক অবস্থার কারণে তাঁকে অত্যন্ত কঠোর চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে রাখা প্রয়োজন।

About Author

Advertisement