নয়াদিল্লি: জাপানের আইচি-নাগোয়ায় চলমান ২০২৬ এশিয়ান গেমসে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল স্বর্ণপদক জয় করেছে। এই জয়ের মাধ্যমে গেমসে ভারতের স্বর্ণপদক জয়ের খাতা খুলল। মঙ্গলবার নিশিনোকো কোরোগি স্পোর্টস পার্কে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ভারত ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ২১৬ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায়। এশিয়ান গেমসের মহিলা ক্রিকেটে ২০০-র বেশি রান করার ঘটনা এটিই প্রথম।
জবাবে শ্রীলঙ্কা দল ১৫.৪ ওভারে মাত্র ৬৯ রানে অলআউট হয়ে যায়। ফলে ভারত ১৪৭ রানের বিশাল ব্যবধানে ফাইনাল জয় করে। এশিয়ান গেমসে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল সফলভাবে তাদের স্বর্ণপদক ধরে রাখে; এর আগে ২০২৩ সালের হাংঝু এশিয়ান গেমসেও ভারত স্বর্ণপদক জিতেছিল।
ফাইনালে ভারতের কাছে হেরে শ্রীলঙ্কা রৌপ্যপদক জয় করে। অন্যদিকে, ব্রোঞ্জপদকটি যায় পাকিস্তান মহিলা দলের ঝুলিতে; তারা তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে বাংলাদেশকে ৩১ রানে পরাজিত করে। ভারতের এই জয়ে স্মৃতি মান্ধানা ও স্পিনাররা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন; ভারতীয় ওপেনার সর্বোচ্চ ৭৯ রান সংগ্রহ করেন। তিনি ৪৫টি বল মোকাবেলা করে ৭টি ছক্কা ও ৫টি চার মারেন। এছাড়া রিচা ঘোষ অপরাজিত ৪৯ রান করেন এবং শেফালি ভার্মা ৪৮ রানের একটি আক্রমণাত্মক ইনিংস খেলেন। ব্যাটাররা যখন রানের পাহাড় গড়েন, তখন স্পিনাররা জয়ের কাজটা সম্পন্ন করেন।
ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে মান্ধানা ও শেফালির উদ্বোধনী জুটি আবারও ভারতকে একটি বিস্ফোরক সূচনা এনে দেয়। শুরু থেকেই এই জুটি দ্রুত রান তুলতে থাকে এবং শ্রীলঙ্কার বোলারদের ওপর চড়াও হয়। মান্ধানা ও শেফালি উদ্বোধনী জুটিতে ১০ ওভারে ৯৯ রান যোগ করেন। শেফালি ২৯ বলে ৪৮ রান করেন, যার মধ্যে ছিল তিনটি ছক্কা ও তিনটি চার। এরপর শেফালি, অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌর (১৯ রান) ও স্মৃতি মান্ধানা নিয়মিত বিরতিতে আউট হলেও, উইকেটকিপার-ব্যাটার রিচা ঘোষ শেষ ওভারগুলোতে বিধ্বংসী ব্যাটিং করে দলকে বিশাল সংগ্রহের পথে এগিয়ে নেন। রিচা ২২ বলে অপরাজিত ৪৯ রান করেন, যার মধ্যে ছিল ছয়টি চার ও তিনটি ছক্কা। ভারতী ফুলমালি ৭ রানে অপরাজিত থাকেন। জয়ের জন্য ২১৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই উইকেট হারাতে থাকে শ্রীলঙ্কা দল। অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তু ছাড়া আর কোনো ব্যাটারই ক্রিজে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি।

নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নিয়ে ভারতীয় স্পিনাররা প্রতিপক্ষের চ্যালেঞ্জ গুঁড়িয়ে দেন। ২৯ রান করে আতাপাত্তু দলের সর্বোচ্চ স্কোরার হন। তিনি ২১টি বল মোকাবেলা করে ৫টি চার মারেন। কৌশিনি নুথিয়াঙ্গানা ১৪ রান এবং কাভিশা দিলহারি ১১ রান সংগ্রহ করেন। ফলে, শ্রীলঙ্কা দল মাত্র ১৫.৪ ওভারে অলআউট হয়ে যায়। ভারতীয় বোলারদের মধ্যে দীপ্তি শর্মা সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট নেন; এছাড়া শেফালি ভার্মা, শ্রেয়াঙ্কা পাতিল ও শ্রী চারণি প্রত্যেকে ২টি করে উইকেট শিকার করেন।





