শাহকে পাশে নিয়ে মনোনয়ন দাখিল শুভেন্দুর, সোনার বাংলা গঠনের ডাক শাহের

IMG-20260402-WA0084

কোলকাতা (শুভাশিস বিশ্বাস): পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রাজ্য রাজনীতি। সোমবার থেকে মনোনয়ন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা চলবে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত।
এই প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার ভবানীপুর কেন্দ্রের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করেন শুভেন্দু অধিকারী। এই কর্মসূচিতে তাঁর পাশে ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
মনোনয়ন দাখিলের আগে হাজরা মোড়ে এক জনসভা করেন অমিত শাহ। সেখান থেকে তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করেন। তিনি জানান, ভোটের আগে আগামী পনেরো দিন তিনি পশ্চিমবঙ্গে অবস্থান করবেন এবং শুভেন্দুর মনোনয়নের কারণেই তাঁর এই সফর।
এরপর তিনি বলেন, শুভেন্দু অধিকারী প্রথমে শুধু নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তাঁর অনুরোধেই তিনি ভবানীপুর থেকেও প্রার্থী হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, “মমতার ঘরে ঢুকে তাঁকে পরাজিত করতে হবে। আগের নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যে সরকার গড়লেও নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন। এবার তিনি শুধু রাজ্যেই নয়, ভবানীপুরেও পরাজিত হবেন।
অমিত শাহ আরও দাবি করেন, “এবার বাংলায় ১৭০টি আসন পেতে হবে, তাহলেই পরিবর্তন সম্ভব। তবে একটি সহজ পথও রয়েছে—ভবানীপুরের একটি আসন হারালেই পরিবর্তনের সূচনা হবে।
এরপর তিনি অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গ উত্থাপন করে বলেন, “বাংলার মানুষ চাঁদাবাজি, দুষ্কৃতী রাজ এবং নারীর নিরাপত্তাহীনতায় বিপর্যস্ত। অনুপ্রবেশকারীদের কারণে জনসংখ্যার ভারসাম্য বদলে যাচ্ছে। বেকারত্ব ও দুর্নীতিতেও মানুষ ক্লান্ত। তাই বাংলার মানুষ পরিবর্তন চায়। অনুপ্রবেশকারীদের খুঁজে বের করে রাজ্যের বাইরে পাঠানো হবে। আমরা সোনার বাংলা গড়ে তুলতে চাই।
তিনি বঙ্গবাসীর উদ্দেশে আহ্বান জানান, “বাংলার প্রতিটি প্রান্তে একটাই আওয়াজ উঠুক, ‘সরকার পরিবর্তন করুন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিদায় দিন।
এরপর হাজরা থেকে দলীয় শোভাযাত্রা শুরু হয়। শোভাযাত্রা কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের নিকট পৌঁছালে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তৃণমূল সমর্থকেরা কালো কাপড় মাথায় বেঁধে বিক্ষোভ দেখান এবং বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।
মুখোমুখি অবস্থানে এসে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা দ্রুত উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। এই সময় অমিত শাহ শোভাযাত্রা ত্যাগ করে তাঁর গাড়িবহর নিয়ে স্থান ত্যাগ করেন এবং অন্যত্র রওনা দেন।
অমিত শাহ ঘটনাস্থল ছাড়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। দলীয় কর্মীদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয় এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।
পরবর্তীতে শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুর কেন্দ্রের জন্য মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। মনোনয়ন জমা দিয়ে তিনি ভবন থেকে বেরিয়ে আসেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজ্য দলের সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং অমিত শাহ।
তবে এদিনের বিক্ষোভ প্রসঙ্গে কোনও মন্তব্য না করলেও অমিত শাহ আবারও ‘সোনার বাংলা’ গড়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “বাংলার মানুষ এবার তৃণমূলকে ক্ষমতা থেকে সরাবে। সরকার গঠনের পর আমরা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলব।
শেষে তিনি দাবি করেন, ২০২৬ সালের নির্বাচনে বাংলায় পরিবর্তন অনিবার্য।

About Author

Advertisement