কোলকাতা(বেবি চক্রবর্ত্তী): পিট সিগার ১৯৩৮ সালে হার্ভার্ডে সাংবাদিকতা ছেড়ে দিয়ে গানের সন্ধানে বেরিয়ে পড়েন। অত্যাধিক সংগ্রামের মধ্যে তার জীবন কাটে। এমনকি একসময় লোকের বাড়িতে রঙের কাজও করতে হয়েছিল তাকে। “উই শ্যাল ওভারকাম” গানটি ১৯০০ সালে প্রথম প্রকাশিত হয় এবং পরবর্তীকালে নাগরিক অধিকার আন্দোলনের একপ্রকার জাতীয় সংগীতে পরিণত হয়। বহু গুরুত্বপূর্ণ পদযাত্রায় এই গান গাওয়া হয়েছে এবং এতে বর্ণবৈষম্য জয়ের বার্তা তুলে ধরা হয়েছে।“উই উইল ওভারকাম” গানটি প্রথম প্রতিবাদী গান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে ১৯৪৫-৪৬ সালে দক্ষিণ ক্যারোলাইনার চার্লসটনে আমেরিকান তামাক সংস্থার বিরুদ্ধে শ্রমিক ধর্মঘটের সময়। ঘণ্টায় ৩০ সেন্ট মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলনরত আফ্রিকান-মার্কিন নারী শ্রমিকরা পিকেটিংয়ের সময় এই গান গাইতেন। ধর্মঘটীদের মধ্যে লুসিল সিমন্সের প্রিয় গান ছিল “আই উইল ওভারকাম”।তিনি ছিলেন একজন মার্কিন লোকসঙ্গীত শিল্পী।

১৯৪০-এর দশকে জাতীয় বেতারের অনুষ্ঠানে এবং ১৯৫০-এর দশকে “দ্য উইভার্স” দলের সদস্য হিসেবে তিনি জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। লিড বেলির “গুডনাইট আইরিন” গানের রেকর্ডিংয়ের জন্য তিনি বিশেষভাবে খ্যাতি লাভ করেন, যা ১৩ সপ্তাহ ধরে শীর্ষ তালিকায় ছিল। ম্যাকারথি আমলে তিনি কালো তালিকাভুক্ত হন।১৯৬০-এর দশকে তিনি পুনরায় জনসমক্ষে আবির্ভূত হন এবং পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ, গণঅধিকার, প্রতিসংস্কৃতি ও পরিবেশবাদকে সমর্থন করে প্রতিবাদী সংগীত গেয়ে খ্যাতি অর্জন করেন। তিনি ছিলেন একজন অসাধারণ গীতিকার। তাঁর বিখ্যাত গানগুলির মধ্যে “ফুলগুলি কোথায় গেল”, “আমার যদি একটি হাতুড়ি থাকত” এবং “টার্ন! টার্ন! টার্ন!” বিশেষভাবে জনপ্রিয়।বিশ্বজুড়ে বহু শিল্পী—কিংস্টন ত্রয়ী, মার্লিন ডিট্রিশ, জনি রিভার্স, পিটার, পল ও মেরি, ট্রিনি লোপেজ প্রমুখ—তার গান পরিবেশন করেছেন। এখনও বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় তার গান গাওয়া হয়।পিট সিগার “উই শ্যাল ওভারকাম” গানটি আধ্যাত্মিক আবেগে পরিবেশন করে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় করে তোলেন। পরে জোয়ান বায়েজ ও উডি গাথরির মতো শিল্পীরাও গানটি গেয়েছেন এবং এটি নাগরিক অধিকার আন্দোলনের অন্যতম প্রতীকী গান হয়ে ওঠে।১৯১৯ সালের ৩ মে নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনে তার জন্ম। তার বাবা চার্লস লুই সিগার ছিলেন একজন সুরকার ও সঙ্গীতবিদ এবং মা কনস্ট্যান্স ছিলেন একজন কনসার্ট বেহালাবাদক। ছোটবেলায় বোর্ডিং স্কুলে পড়লেও পরে বাড়িতে ফিরে আসেন।১৯৩৬ সালে তিনি যুব কমিউনিস্ট সংঘে যোগ দেন এবং ১৯৪২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য হন, যদিও ১৯৪৯ সালে তা ত্যাগ করেন। ১৯৪১ সালে তিনি অ্যালমানাক সিঙ্গার্স দলের সঙ্গে কাজ করেন।স্প্যানিশ গৃহযুদ্ধের সময় রিপাবলিকান বাহিনীর সমর্থনে গান গেয়েছেন এবং “লিঙ্কন ব্যাটালিয়নের গানসমূহ” অ্যালবাম রেকর্ড করেন।১৯৬০-এর দশকে নাগরিক অধিকার আন্দোলনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হন। ১৯৬৩ সালে কার্নেগি হলে এক ঐতিহাসিক অনুষ্ঠান আয়োজন করেন, যেখানে “উই শ্যাল ওভারকাম” গানটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। সেলমা থেকে মন্টগোমারি পর্যন্ত পদযাত্রাতেও তিনি অংশ নেন।তিনি “পিপলস সংস বুলেটিন” ও “ব্রডসাইড” পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। লোকসঙ্গীতের মাধ্যমে সামাজিক পরিবর্তনের বার্তা ছড়িয়ে দেন।বব ডিলানের সঙ্গে তার গভীর সম্পর্ক ছিল। নিউপোর্ট লোকসংগীত উৎসবে ডিলানকে আমন্ত্রণ জানান এবং বহু মঞ্চে একসঙ্গে গান পরিবেশন করেন। ভিয়েতনাম যুদ্ধের বিরুদ্ধেও তিনি প্রতিবাদী সংগীতে অংশ নেন।ওয়াল স্ট্রিট আন্দোলনের সময়ও অসুস্থতা উপেক্ষা করে তিনি রাস্তায় নেমে গান গেয়েছেন। “লিটল বক্সেস” ও “আজ তুমি স্কুলে কী শিখলে” তার উল্লেখযোগ্য গানগুলির মধ্যে অন্যতম।ধর্ম ও আধ্যাত্মিকতা নিয়ে তার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ছিল। তিনি বিশ্বাস করতেন ঈশ্বর সর্বত্র বিদ্যমান এবং মানুষের আত্মাকে একত্রিত করার মধ্যেই আধ্যাত্মিকতার প্রকৃত অর্থ নিহিত।এই আধুনিক যুগেও সংগীত জগতে পিট সিগার এক অনন্য নাম হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছেন।










