যাদবপুরে রাজনৈতিক মিটিং নয়, নির্দেশ হাইকোর্টের

IMG-20250327-WA0332

ওয়েবকুপার মিটিংকে কেন্দ্র করে চলতি মাসের শুরুতে অশান্ত হয়ে উঠেছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়।সেই অশান্তির মধ্যেই শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর গাড়িতে হামলা চলে বলে অভিযোগ ওঠে। গুরুতর জখম হন দুই ছাত্র নেতা। এই আবহে যাদবপুরের ক্যাম্পাসে কোনও রাজনৈতিক নেতাকে নিয়ে মিটিং করার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করল কলকাতা হাইকোর্ট। যাদবপুর নিয়ে এক মামলায় বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে কোনও রাজনৈতিক নেতা বা গুরুত্বপূর্ণ কোনও ব্যক্তিকে নিয়ে সেমিনার, মিটিং করা যাবে না। পাশাপাশি এ দিন প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, ‘যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয় বলে জানা ছিল, কেন রাজনৈতিক কোনও নেতা সেখানে যাওয়ার আমন্ত্রণ গ্রহণ করলেন? এই বিষয়টির প্রভাব পড়বে জেনেও তিনি কেন বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলেন, তা আদালতের কাছে স্পষ্ট নয়।’ গত ১ মার্চ তৃণমূলের অধ্যাপক সংগঠন ওয়েবকুপার সম্মেলনে যোগ দিতে যাদবপুরে যান শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। তখন তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান পড়ুয়াদের একাংশ। ওঠে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান। একসময়ে শিক্ষামন্ত্রীর গাড়ি চাকার হাওয়া খুলে দেন বিক্ষোভকারীরা। ভাঙচুর চলে গাড়িতে। শিক্ষামন্ত্রীর গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে গুরুতর জখম হন এক ছাত্র। অপর এক ছাত্রও অশান্তির মধ্যে আহত হন। যাদবপুর কাণ্ডে রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয় গোটা রাজ্য জুড়ে। এই ঘটনার পর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিয়ে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয় হাইকোর্টে।ক্যাম্পাসের পুলিস আউটপোস্ট বসানোর আর্জি জানিয়েছেন মামলাকারীরা। বৃহস্পতিবার মামলাটির শুনানি হাইকোর্টে প্রধান বিচারপতি ডিভিশন বেঞ্চে।এদিনের শুনানিতে রাজ্যের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘যাদবপুরে গুণ্ডারাজ চলছে। ২০১৪ সালের পর শ্লীলতাহানির মামলা রুজু হয়েছিল। একাধিক এফআইআর হয়। কিছু সময় বশ মানে না এমন ঘোড়া ছুটে বেড়াচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ে। আদালত যা নির্দেশ দেবে তা মাথা পেতে নেব। এখন শুধু শান্তি চাই। বিশ্ববিদ্যালয় কিছু করছে না। আমরা নিরুপায়।’ প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন করেন, ‘বেসরকারি নিরাপত্তা কর্মীদের কোনও ক্ষমতা থাকে না। তাঁদের হাতে কোনও অস্ত্র থাকে না। সেই ক্ষেত্রে কেন রাজ্য পুলিশের সাহায্য নিতে চান না বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ?’ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনজীবী ঋজু ঘোষাল বলেন, ‘আমরা চিঠি লিখেছি। উচ্চ শিক্ষা দপ্তরকে টাকার কথা জানানো হয়েছে।’ এ দিন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে জনস্বার্থ মামলার প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘বিশেষ বাহিনী মোতায়েন করুন। উপাচার্য-সহ বাকিদের ইচ্ছে থাকলে উপায় হয়। তাঁরা চাইলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রিত হবে। প্রথমে যাঁরা ছাত্র নন তাঁদের বার করতে হবে।’উল্লেখ্য, গত ১ মার্চ ওয়েবকুপার বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। সেই সময়ে বামেদের কিছু ছাত্র সংগঠন ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে সরব হন। বিক্ষোভ দেখানো হয় ব্রাত্যকে ঘিরে। তাঁর গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। পাল্টা ছাত্রদের অভিযোগ ছিল, ব্রাত্যর গাড়ির ধাক্কায় আহত হন এক ছাত্র। এই ঘটনার পরেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, প্রতি গেটে রাজ্য পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়ার আবেদন জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হয়েছিল একটি জনস্বার্থ মামলা। বৃহস্পতিবার সেই মামলাটির শুনানি হয় প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে।

About Author

Advertisement