কোলকাতা: ভোট বঙ্গে কার্পেট বম্বিংয়ে অমিত শাহ। এদিকে ফালাকাটায় আক্রান্ত বিজেপি প্রার্থী। এই ঘটনায় রীতিমতো হুঙ্কার দিতে দেখা যায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে।
মঞ্চে উঠে অমিত শাহ স্লোগান দিলেন, ‘ভারত মাতা কী জয়’। উপস্থিত জনতার উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়লেন, ‘মমতার সিন্ডিকেট সরকারকে সরাতে হবে তো? আর বিজয়ের সংকল্প নিয়ে জোরে বলুন, জয় শ্রীরাম।’ সঙ্গে অমিত শাহ এও বলেন, ‘ভয় এবং দুর্নীতি থেকে বাংলাকে রক্ষা করতে এসেছি।
এ সব কাজ কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর ভাইপো করতে পারবেন? এ কাজ শুধু করতে পারে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন আমাদের লোক।’ এর পাশাপাশি তুলে ধরেন মহিলাদের সুরক্ষার ইস্যুও। এই প্রসঙ্গে শাসকদল ও তৃণমূল সুপ্রিমোকে বিঁধে জানান, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মহিলা হয়ে মহিলাদের বলেন, সন্ধ্যা ৭টার পর বাড়ির বাইরে যেতে নয়।
আমি বলছি, ৫ মে-র পর সকল মহিলা রাত ১২টাতেও বাইরে সুরক্ষিত ভাবে চলাফেরা করতে পারবেন। কারণ, বিজেপি আসছে।’ এর পাশাপাশি শাহের আশ্বাস, ‘এই নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি গুন্ডাও আপনাদের কারও গায়ে হাত দিতে পারবে না।
সেই গুন্ডারাও শুনে নিক, ৫ তারিখের পর বাংলায় সরকার গড়ছে বিজেপি। তাই ভোটের দিন ২৩ তারিখ তারা যেন বাড়িতে থাকে। না হলে উল্টো করে ঝুলিয়ে সোজা করব।’
এর পাশাপাশি উঠে আসে হুমামুয়ন প্রসঙ্গও। এই প্রসঙ্গে শাহের দাবি, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের চ্যালা হুমায়ুন কবীরকে নিজের পার্টি থেকে বার করে দিয়ে বাবরি মসজিদ বানাতে চায়। মমতাদিদি এবং তাঁর ভাইপো কান খুলে শুনে নিন, এখানকার মাটিতে বাবরি মসজিদ হবে না।
এর পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের চা বাগানের শ্রমিকদের জন্য তাঁর প্রতিশ্রুতি, ‘চা-বাগানে আধুনিক মডেল স্কুল হবে। শ্রমিকেরা মাসে তিন হাজার করে টাকা পাবেন। উত্তরবঙ্গে এমস বানাতে হবে তো? আমরা সরকার গড়লেই এমস গড়ার কাজ শুরু করব। ৫০০ বেডের ক্যানসার হাসপাতাল হবে। সেটাও উত্তরবঙ্গে।
উত্তরবঙ্গের যুব সম্প্রদায়ের জন্য আইআইএম, আইটি গড়ার কাজ বিজেপি-ই করবে। আমাদের গোর্খা ভাইদের সমস্যা সমাধানের কাজ করব। উত্তরবঙ্গে চারটি নতুন শহর বানানোর কাজ করব। ৪৫ দিনের মধ্য়ে পুরো বাংলার সীমান্ত সুরক্ষা কাজ করব।’
এদিনের বক্তব্যে উঠে আসে লাভ-জিহাদ প্রসঙ্গও। আর এই প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘আপনারা জানেন তো কারা চারটে বিয়ে করেন? বিজেপিকে আসতে দিন, এ সব বন্ধ হয়ে যাবে। লাভ জিহাদ আর ল্যান্ড জিহাদ শেষ করব।
এরপরই বাংলার ভবিষ্যত মুখ্যমন্ত্রী সম্পর্কে শাহ মমতাকে বিদ্ধ করে বলেন,‘মোদীজির জন্য আপনারা সবাই তাঁর ভাই-ভাইপো। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটাই ভাইপো। তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী করতে চান। মমতাদিদি, কান খুলে শুনে নিন, আপনার সময় সমাপ্ত।
বুধবার বিহারে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছেন বিজেপি নেতা। ওড়িশাতেও বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী। এ বার পশ্চিমবঙ্গ। ৫ তারিখের পর অঙ্গ, বঙ্গ এবং কলিঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হবে বিজেপির।’ এরই রেশ ধরে শাহের সংযোজন, ‘শুধু পদ্মের সরকার আনুন, আপনাদের সব পাওনা গন্ডায় শোধ করবে সরকার।
কংগ্রেস, সিপিএম, তৃণমূল সব এক। মমতা বলেন, বাইরের লোক বিজেপি চালাবে এ রাজ্যে। মিথ্যা বলছেন। আমি বলছি, এ রাজ্যে বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হবেন বাংলার মাটির ছেলে। তবে বিশেষ কারও ভাইপো হবেন না।
রাজ্যে বিজেপি এলে একাধিক সমস্যার সমাধান হবে জানিয়ে অমিত শাহ পাহাড়বাসীকে গোর্খা ইস্যু নিয়েও আশ্বস্ত করেন। সঙ্গে এও বলেন, ‘বিজেপি ক্ষমতায় এলে নিশ্চিত ভাবে গোর্খা সমস্যার সমাধান করা হবে। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে একাধিকবার গোর্খা সমস্যার সমাধান করতে উদ্যোগী হয়েছি।
গত দেড় বছরে তিন বার মমতা দিদিকে বৈঠকে ডাকা হয়েছে। কিন্তু দিদি বা সরকারের কোনও প্রতিনিধি দিল্লি যায়নি। এরপর আমি বিরক্ত হয়ে রাজ্যে একজন প্রতিনিধি পাঠাই। কিন্তু তাঁকেও সরকার সময় দেয়নি।’
এরপরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে অমিত শাহ বলেন, ‘দার্জিলিংয়ের পাহাড়ে থাকা গোর্খারা নিজেদের অধিকার পাক, বিচার পাক, এটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চান না। কিন্তু আপনারা চিন্তা করবেন না। ৫ মে সরকার গঠনের পর, বিজেপির মূল লক্ষ্য হবে যত দ্রুত সম্ভব সংবিধানের মধ্যে থেকে গোর্খাদের সমস্যা, পাহাড়ের সমস্যার সমাধান করা।’
বুধবার দার্জিলিং ও কার্শিয়াং বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থীদের সমর্থনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অমিত শাহ অভিযোগ করেন, তৃণমূল সরকার দার্জিলিং জুড়ে এক ‘পুলিশ-রাজ’ কায়েম করেছে। তাঁর সাফ কথা, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার পাহাড়ে যে পুলিশি শাসন চালাচ্ছে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে তা সমূলে বিনাশ করা হবে। গোর্খাদের ওপর হওয়া অন্যায়ের বিচার হবে।’
ভিডিও বার্তার শেষে তিনি পাহাড়ের মানুষের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন এবং নতুন দিনক্ষণ ঘোষণা করেন। আবহাওয়া প্রতিকূল থাকায় আজ না পারলেও, আগামী ২১ এপ্রিল শুকনায় তিনি সশরীরে উপস্থিত থেকে ভোটপ্রচার করবেন বলেও জানান।অমিত শাহের দাবি, রাজ্যজুড়ে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। অনুপ্রবেশ আটকানো, সিন্ডিকেট রাজের অবসান এবং গুন্ডারাজ শেষ করাই হবে নতুন সরকারের অগ্রাধিকার।
পাহাড়ের রাজনৈতিক সমীকরণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই ‘স্থায়ী সমাধান’-এর প্রতিশ্রুতি ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ঠিক কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।পাশাপাশি অমিত শাহ প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, ‘গোর্খাদের উপর যে হাজার হাজার কেস রেজিস্টার করা হয়েছে, সরকার গঠনের পর সেই সব মামলা তুলে নেওয়া হবে এবং সকলের সঙ্গে ন্যায় হবে।’
এরই সঙ্গে আরও একবার পরিবর্তনের ডাক দিয়ে শাহের হুঙ্কার, ‘মমতাদিদির সময় এবার শেষ, বিজেপির সময় শুরু।’










