সেনাপতি: মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ইয়ুমনাম খেমচাঁদ সিং সেনাপতি জেলার মারাম, তাদুবি ও মাও অঞ্চলের বাসিন্দাদের জাতীয় সড়কে অবাধ যান চলাচল পুনরায় চালু করতে সহযোগিতা করার জন্য প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, ইম্ফল থেকে দিমাপুর হয়ে গুয়াহাটি পর্যন্ত সংযোগকারী এই জাতীয় সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হওয়ায় মণিপুরের অর্থনীতিও ইতিবাচকভাবে উপকৃত হয়েছে।
সেনাপতি জেলার তাদুবি স্থানীয় মাঠে আয়োজিত ‘সেবা সংকল্প অভিযান’ কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সিং এ কথা বলেন। তিনি জানান, ২০২৫ সালে প্রাক্তন বিধায়ক এন. কায়িসির মৃত্যুর পর থেকে ঊনপঞ্চাশতম তাদুবি বিধানসভা কেন্দ্রে কোনো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি নেই। এই পরিস্থিতিতে ওই এলাকায় আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত তিনি ব্যক্তিগতভাবে নিয়েছিলেন।
২০২৩ সালের ৩ মে থেকে শুরু হওয়া সংকটের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পরিবহণ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় রাজ্যকে বিপুল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। তাঁর অনুমান অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে মণিপুরের পণ্য ও পরিষেবা কর (জিএসটি) রাজস্বে প্রায় এক হাজার দুইশো কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বন্ধ ও অবরোধের মতো কর্মসূচির কারণে দৈনিক মজুরির ওপর নির্ভরশীল শ্রমিকদের অতিরিক্ত আর্থিক চাপের মুখে পড়তে হয়েছে। পাশাপাশি, রাজ্যজুড়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও ব্যাহত হয়েছে।
বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সিং বলেন, পারস্পরিক মতপার্থক্য আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। মণিপুরের ইতিহাসের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, মণিপুরি-বর্মি যুদ্ধের সময় রাজ্যের ছত্রিশটি সম্প্রদায় সম্মিলিতভাবে বর্মি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। সেই যৌথ ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সকল সম্প্রদায়কে অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী এ বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে, মেইতেই, নাগা ও কুকি সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে নিজেদের মণিপুরি হিসেবে পরিচয় দিতে ক্রমশ অনীহা দেখা যাচ্ছে। তিনি জাতীয় ও রাজ্যগত পরিচয়ের একটি অভিন্ন চেতনা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মানুষের প্রথমে নিজেদের ভারতীয় এবং তারপর মণিপুরি হিসেবে পরিচয় দেওয়া উচিত।
বিভিন্ন সম্প্রদায়ের পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে উন্নয়ন অর্জনের উদাহরণ হিসেবে সিঙ্গাপুরের কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মণিপুরের সার্বিক উন্নয়নের জন্য সম্মিলিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত জরুরি।
এ সময় তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’ পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ভারতের স্বাধীনতার শতবর্ষ, অর্থাৎ ২০৪৭ সালের মধ্যে দেশকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করার লক্ষ্য পূরণে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
পরিশেষে মুখ্যমন্ত্রী সিং রাজ্যে শান্তি, সম্প্রীতি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে পুনরায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে সহযোগিতা, পারস্পরিক আস্থা ও সংলাপকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।





