ভোট শেষেই বিস্ফোরক অভিযোগ অধীর চৌধুরীর‎‎

IMG-20260503-WA0073

বহরমপুর: পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন শেষ হয়েছে। আগামী ৪ মে ফল ঘোষণা হওয়ার কথা। তার আগেই ভোটগ্রহণ ও গণনায় নিযুক্ত প্রতিনিধিদের ভূমিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করলেন প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা বহরমপুর কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরী।‎বহরমপুরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, ভোটের লড়াইয়ে সাফল্য পেতে গণনা প্রতিনিধিদের সক্রিয়তা অত্যন্ত জরুরি। কারণ, ভোটের দিন বহু জায়গায় তাঁদের প্রতিনিধিদের বুথে বসতে দেওয়া হয়নি। এমনকি যাঁরা বসেছিলেন, তাঁদের বাড়িতে গিয়ে তৃণমূলের কর্মীরা পরিবারের সদস্যদের ভয় দেখিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরে তাঁদের বুথ থেকে সরিয়েও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাঁর।‎তিনি আরও অভিযোগ করেন, তৃণমূল সরকারের মতো ভোট লুঠের পদ্ধতি অন্য কোথাও দেখা যায় না। তাঁর বক্তব্য, কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা থাকলেও অন্যান্য রাজ্যে ভোট প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক থাকে এবং সেখানে অবাধে ভোট লুঠের ঘটনা ঘটে না। পশ্চিমবঙ্গে ভোটের সময় সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করে ভোট লুঠ করা হয় বলেও তিনি দাবি করেন।‎নির্বাচন কমিশন প্রসঙ্গে অধীর চৌধুরী বলেন, কমিশন যেভাবে কিছু ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার খর্ব করেছে, তার প্রতিবাদ করা হয়েছে। তবে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠভাবে পরিচালনা করার জন্য কমিশনের ভূমিকা প্রশংসনীয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।‎তিনি জানান, শক্তিশালী কক্ষে বিভিন্ন ধরনের নজরদারি ব্যবস্থা বসানো হয়েছে এবং চব্বিশ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ চলছে। তবে সেখানে থাকা ঘড়ির সময়ের সঙ্গে সাধারণ মানুষের ঘড়ির সময়ের অমিলের মতো কিছু ছোটখাটো সমস্যার কথাও তিনি তুলে ধরেন এবং সে বিষয়ে অভিযোগ জানানো হয়েছে বলে জানান।‎অধীর চৌধুরীর দাবি, পঞ্চায়েত ও পুরসভা নির্বাচনের মতো রাজ্য সরকারের অধীনস্থ ভোটে সাধারণ মানুষকে ভোট দেওয়ার সুযোগই দেওয়া হয় না। সেখানে পুলিশ ও তৃণমূল কর্মীরা মিলে সন্ত্রাস সৃষ্টি করে ভোট লুঠ করে। তবে বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনে মানুষ কিছুটা হলেও ভোট দেওয়ার সুযোগ পান। বিশেষ করে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে ভোট দিতে পেরেছেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

About Author

Advertisement