কাঠমান্ডু: বিজ্ঞানীরা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে ভোটেকোশি অঞ্চলে হওয়া বিধ্বংসী বন্যায় জলবায়ু পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীদের সঙ্গে পরামর্শের পর ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন (ডব্লিউডব্লিউএ) প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, তাপমাত্রা বৃদ্ধি, হিমবাহের পরিবর্তন এবং অন্যান্য আবহাওয়াগত পরিস্থিতির কারণে বন্যার ঝুঁকি বেড়েছে।
ডব্লিউডব্লিউএ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘটিত চরম আবহাওয়া ও জলবায়ু-সম্পর্কিত ঘটনায় জলবায়ু পরিবর্তনের ভূমিকা নিয়ে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সংগ্রহ করে আসছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, ভোটেকোশিতে বন্যা আসার আগে প্রায় ২ লাখ বর্গমিটার এলাকার একটি হিমবাহ ভেঙে পড়েছিল। এর পর প্রায় ১১ কোটি ঘনমিটার তুষার ও বরফের বিশাল অংশসহ বড় ধরনের ভূমিধস হয়েছিল। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ভূমিধসের আগে ওই এলাকায় অস্বাভাবিকভাবে তাপমাত্রা বেড়েছিল।
এই পরিস্থিতির ভিত্তিতে বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভোটেকোশি বন্যায় জলবায়ু পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। গবেষণায় যুক্ত ফ্রেডেরিক ওট্টো জানিয়েছেন, তুষারধস, ভারী বৃষ্টিপাত, উচ্চ তাপমাত্রাসহ কয়েক ডজন বিষয় নিয়ে গবেষণা করার পর এই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়েছে।
তবে গবেষণায় যুক্ত বিশেষজ্ঞদের মতে, ভোটেকোশিতে বন্যার একমাত্র কারণ জলবায়ু পরিবর্তন নয়। ওয়াল্টার ইমার্জেল-এর মতে, ২০১৫ সালের ভূমিকম্পের প্রভাব, পারমাফ্রস্ট-এর হ্রাস, হিমবাহ ক্রমশ পাতলা হয়ে যাওয়া এবং তাপমাত্রার পরিবর্তনসহ বিভিন্ন কারণে বন্যার ঝুঁকি বেড়ে থাকতে পারে।
ইমার্জেলের মতে, দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে জমাট অবস্থায় থাকা মাটিকে পারমাফ্রস্ট বলা হয়। নেপালে এ ধরনের মাটি মূলত সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫,২০০ মিটারের বেশি উচ্চতায় পাওয়া যায়। তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পারমাফ্রস্ট দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে হিমালয় অঞ্চলে ভূমিধসসহ অন্যান্য ভূ-প্রাকৃতিক ঝুঁকি বাড়তে পারে।
সুতরাং, বিশেষজ্ঞদের সিদ্ধান্ত হলো, ভোটেকোশি বন্যাকে কোনো একটি কারণের ফল হিসেবে না দেখে জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি ভূমিকম্পের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব, হিমবাহের ক্ষয়, পারমাফ্রস্টের পরিবর্তন এবং অস্বাভাবিক তাপমাত্রাসহ একাধিক কারণের সম্মিলিত ফল হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।





