গুয়াহাটি, ৮ সেপ্টেম্বর: অসমের সদিয়ায় জন্ম নেওয়া ভারতরত্ন ভূপেন হাজারিকার জন্মশতবর্ষে তাঁকে শুধু গীতিকার হিসেবে নয়, অসম এবং সমগ্র উত্তর-পূর্ব ভারতের সাংস্কৃতিক আত্মাকে একসূত্রে বাঁধা এক মহান স্রষ্টা হিসেবেও স্মরণ করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি হাজারিকাকে স্মরণ করে বলেছেন, তাঁর কণ্ঠ “অসমের আত্মা এবং উত্তর-পূর্বের চেতনাকে” সমগ্র ভারতের কাছে পৌঁছে দিয়েছিল। তবে তাঁর স্মৃতিকে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে সেই স্থানগুলিকে রক্ষা করার মধ্যেই, যেখানে তিনি জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় এবং সৃষ্টিশীল যাত্রার নানা অধ্যায় কাটিয়েছেন।
কলকাতার টালিগঞ্জের ৭৭ বি, গল্ফ ক্লাব রোডে তাঁর পুরনো বাসভবনকে স্মৃতি ও প্রেরণা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ চলছে। ১৯৮১ সালে তিনি এই বাড়ির প্রথম তলাটি কিনেছিলেন।
অসমের কুঠোরিতে হাজারিকার বাড়িটিও রাজ্য সরকার সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে। এই বাড়িতেই তিনি ‘কাজিরাঙা’-সহ বহু স্মরণীয় গান রচনা করেছিলেন। বাড়িটিকে একটি সংগ্রহশালায় রূপান্তরের প্রস্তুতি চলছে। জলুকবাড়িতে অবস্থিত ড. ভূপেন হাজারিকা সমন্বয় ক্ষেত্রেও একটি পূর্ণাঙ্গ সংগ্রহশালা নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে চলেছে।
মেঘালয়ের শিলংয়ের সঙ্গেও তাঁর ছিল গভীর আত্মিক সম্পর্ক। ‘শিলংরে গোধূলি’, ‘শিলংরে মোনালিসা লিংদোহ’ এবং ‘লিয়েন মাকাও’-এর মতো সৃষ্টিতে তিনি পাহাড়, সংস্কৃতি এবং মানবিক সম্পর্ককে দিয়েছেন কণ্ঠস্বর।
হাজারিকার গান অসমিয়া, বাংলা এবং হিন্দি—তিন ভাষাতেই মানুষের হৃদয়ে পৌঁছেছিল। তাঁর গানে ছিল নদী, প্রকৃতি, প্রেম, দারিদ্র্য, অন্যায়, বাস্তুচ্যুতি এবং মানবতার গল্প।
এক শতাব্দী পর তাঁর কণ্ঠ হয়তো নীরব হয়েছে, কিন্তু তাঁর সঙ্গীতের নদী আজও অবিরাম বয়ে চলেছে।





