ভারত-নেপাল যৌথভাবে স্থানীয় ভাষার জন্য তৈরি করবে এআই প্রযুক্তি, কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আলোচনা

IMG-20260902-WA0117

নয়াদিল্লি: ভারত ও নেপাল স্থানীয় ভাষাগুলোকে ডিজিটাল জগৎ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সঙ্গে যুক্ত করতে যৌথভাবে কাজ করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা শুরু করেছে। ভারত সরকারের ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ডিজিটাল ইন্ডিয়া কর্পোরেশনের ডিজিটাল ইন্ডিয়া ভাষিণী ডিভিশনের (ডিআইবিডি) একটি দল কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার ও এআই সেন্টারের দলের সঙ্গে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গেও বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনায় বিশেষভাবে নেপালের স্থানীয় ভাষাগুলোর জন্য এআই-ভিত্তিক প্রযুক্তি তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়। নেপালির পাশাপাশি নেওয়ারি, তামাং এবং গুরুং-এর মতো ভাষাগুলোকে এআই ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আরও কার্যকরভাবে অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি প্রচলিত ও রঞ্জনা লিপির মতো ঐতিহ্যবাহী লিপিগুলোকেও ডিজিটাল প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়। উভয় পক্ষই মনে করে, এআইয়ের যুগে তুলনামূলকভাবে কম ব্যবহৃত ভাষাগুলোকে প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করা জরুরি, যাতে এসব ভাষাভাষী মানুষও ডিজিটাল পরিষেবার পূর্ণ সুবিধা পেতে পারেন।
বৈঠকে ভাষাসংক্রান্ত তথ্য বা ল্যাঙ্গুয়েজ ডেটা সংগ্রহ ও সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা হয়। বিভিন্ন ভাষা ও উপভাষায় কথা বলা মানুষের কণ্ঠস্বর এবং ভাষাসংক্রান্ত পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া গেলেই উন্নত এআই মডেল তৈরি করা সম্ভব। একই সঙ্গে অনুবাদ পরিষেবা উন্নত করা এবং ভাষা মডেল তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় কম্পিউটিং ক্ষমতা সংগ্রহের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
এই সহযোগিতার পরিধি শুধু এআই মডেল তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। উভয় পক্ষ এমন প্রযুক্তি তৈরির সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেছে, যার মাধ্যমে মানুষ নিজের স্থানীয় ভাষায় কণ্ঠস্বরের সাহায্যে ডিজিটাল পরিষেবা ব্যবহার করতে পারবেন। অর্থাৎ ভবিষ্যতে স্থানীয় ভাষায় কথা বলে তথ্য পাওয়া, বিভিন্ন পরিষেবা ব্যবহার করা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার মতো সুবিধা তৈরি করা যেতে পারে।
কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার ও এআই সেন্টার এ ক্ষেত্রে গবেষণা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা দিতে পারে। অন্যদিকে, ভারতের ভাষিণী প্ল্যাটফর্ম ইতিমধ্যেই বহুভাষিক ডিজিটাল পরিষেবা এবং ভাষাভিত্তিক এআই নিয়ে কাজ করছে। ফলে দুই প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতার মাধ্যমে নেপালের স্থানীয় ভাষাগুলোর জন্য নতুন এআই মডেল ও ডিজিটাল সমাধান তৈরির সম্ভাবনা আরও বাড়তে পারে।
ভারতের ভাষিণী দেশে এআই-ভিত্তিক বহুভাষিক ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির একটি প্রধান প্ল্যাটফর্ম। এটি ৮০০টিরও বেশি সরকারি ওয়েবসাইটকে ভাষাসংক্রান্ত সুবিধা প্রদান করছে এবং ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক ভাষার জন্য প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দিচ্ছে। ভারত-নেপালের এই উদ্যোগ ভাষা, প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল পরিষেবার ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতায় একটি নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

About Author

Advertisement