বেঙ্গালুরুতে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনায় এখনও বিতর্ক

IMG-20250608-WA0275

বেঙ্গালুরু: আগাম আন্দাজ করেছিল পুলিশ। সতর্কও করেছিল তারা। তবু এড়ানো গেল না দুর্ঘটনা। এই ঘটনার দায় কার? বেঙ্গালুরুতে পদপিষ্ট হয়ে ১১ জনের মৃত্যুর ঘটনায় শুরু হয়েছে তদন্ত। তার মাঝেই প্রকাশ্যে এসেছে পুলিশের একটা চিঠি। তাতে পরিষ্কার লেখা রয়েছে যে ভিড় নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে। তার পরেও কেন ব্যবস্থা নিল না প্রশাসন? ৩ জুন আইপিএল জিতেছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। সে দিনই বিরাট কোহলি জানিয়ে দিয়েছিলেন, বেঙ্গালুরুতে সমর্থকদের সঙ্গে উৎসব করার পরিকল্পনা তাঁদের রয়েছে। ৪ জুন বেঙ্গালুরু পুলিশের ডেপুটি কমিশনার এমএন কারিবাসবন গৌড়া একটা চিঠি লিখেছিলেন। ‘ডিপার্টমেন্ট অফ পার্সোনাল অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ রিফর্মস’-এর সচিব জি সত্যবতীকে লেখা সেই চিঠিতে ভিড় নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করেছিলেন গৌড়া। ‘ইন্ডিয়া টুডে’ একটা রিপোর্টে এই কথা জানিয়েছে। চিঠিতে গৌড়া লেখেন, “বিধান সৌধ ও চিন্নাস্বামীর বাইরে লক্ষ লক্ষ মানুষের ভি়ড় জমবে। নিরাপত্তারক্ষীর সংখ্যা কম। ফলে ভিড় সামলানো পুলিশের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে।” চিন্নাস্বামীর বাইরে ১১ জনের মৃত্যুর পর মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া জানিয়েছিলেন, স্টেডিয়ামের বাইরে প্রায় দু’লক্ষ সমর্থক জড়ো হয়েছিলেন। ভিড় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল। জানা গিয়েছে, স্টেডিয়ামের বাইরে ৫০০ পুলিশকর্মী ছিলেন। তাঁরা ভিড় সামলাতে পারেননি। এখন এই চিঠি প্রকাশ্যে আসার পর প্রশ্ন উঠছে, পুলিশ যখন আগাম আন্দাজ করেছিল যে ভিড় নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে, তা হলে আগে থেকে তারা বন্দোবস্ত করল না কেন? তা হলে অন্তত ১১টা প্রাণ চলে যেত না। ১৭ বছর অপেক্ষার পর দল আইপিএল জেতায় বেঙ্গালুরুতে উৎসব শুরু হয়ে গিয়েছিল গত মঙ্গলবার রাত থেকেই। বুধবার কোহলিরা শহরে পৌঁছালে সেই উৎসব আরও বাড়ে। কোহলি এবং আরসিবি তারকাদের দেখতে বিপুল জনসমাগম হয় বিধান সৌধ ও চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের বাইরে। বৃষ্টির কারণে বিধান সৌধের অনুষ্ঠান তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যায়। ফলে চিন্নাস্বামীর বাইরে ভিড় বাড়তে শুরু করে। পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয়। ফলে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। সেখানেই পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় ১১ জনের। আহতের সংখ্যা প্রায় ৫০।

About Author

Advertisement