মুম্বাই: মহারাষ্ট্রের বারামতীতে সংঘটিত বিমান দুর্ঘটনার তদন্ত এখন রাজ্য অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) পরিচালনা করবে। এই দুর্ঘটনায় মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারসহ মোট পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছিল।
একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ২৮ জানুয়ারি পুনে জেলার বারামতীতে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার পর নথিভুক্ত আকস্মিক মৃত্যুর মামলার তদন্ত সিআইডির হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ জারি করা হয়েছে। পুনে গ্রামীণ পুলিশ ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস)-এর ধারা ১৯৪ অনুযায়ী মামলা রুজু করে তা সিআইডিতে স্থানান্তর করেছে।
দুর্ঘটনার সময় ব্যক্তিগত বিমানে উপস্থিত ছিলেন অজিত পাওয়ার (৬৬), পাইলট ক্যাপ্টেন সুমিত কাপুর, সহ-পাইলট ক্যাপ্টেন শাম্ভবী পাঠক, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা আধিকারিক বিদীপ যাদব এবং বিমান সেবিকা পিঙ্কি মালি—সকলেই প্রাণ হারান। ক্যাপ্টেন কাপুরের ১৫ হাজার ঘণ্টার বেশি এবং সহ-পাইলটের প্রায় ১,৫০০ ঘণ্টার উড়ান অভিজ্ঞতা ছিল।
এদিকে, কেন্দ্রীয় বেসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের অধীন বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত ব্যুরো (এএআইবি)ও দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। দুর্ঘটনাস্থল থেকে ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার করা হয়েছে। সামনে আসা ভিডিও ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানের ভিত্তিতে বিভিন্ন সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সরকার দুর্ঘটনার দিনই জানিয়েছিল যে বিমান অবতরণের সময় ওই এলাকায় ঘন কুয়াশা ছিল। প্রাথমিক যোগাযোগের সময় পাইলট এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে রানওয়ে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছিলেন। তবে কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা এই দুর্ঘটনায় ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
সিআইডির একটি দল পুনে গ্রামীণ পুলিশের কাছ থেকে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংগ্রহ করবে এবং বারামতী এয়ারস্ট্রিপের কাছে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবে। পাশাপাশি, মুম্বাই থেকে উড়ান শুরুর আগে বিমানে কোনও ধরনের কারসাজির সম্ভাবনাও তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে।











