বাংলায় ১১০টিরও বেশি আসনে জয়ের পূর্বাভাস অমিত শাহের, প্রথম দফার ভোটে ‘পরিবর্তনের ইঙ্গিত’ দাবি

Screenshot_20260424_215252_Facebook

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শেষ হতেই জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী সুর শোনা গেল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-এর গলায়। শুক্রবার সকালে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি দাবি করেন, প্রথম দফার নির্বাচনে ১১০টিরও বেশি আসনে জয় পাবে ভারতীয় জনতা পার্টি। তাঁর কথায়, বিপুল ভোটার উপস্থিতি প্রমাণ করে যে তৃণমূলের শাসনের অবসান আসন্ন।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার ১৫২টি আসনে প্রথম দফার ভোটগ্রহণে রেকর্ড হারে ভোট পড়েছে। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ভোটের হার ৯২.৫২ শতাংশ ছাড়িয়েছে। এই উচ্চ ভোটদানের হারকে ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছে বিজেপি শিবির। এর আগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সাধারণ মানুষকে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন।
অমিত শাহ তাঁর বক্তব্যে নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং রাজ্য পুলিশের ভূমিকায় সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, বাংলার ইতিহাসে অন্যতম শান্তিপূর্ণ ও সুরক্ষিত ভোটগ্রহণ হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, দুই দফা মিলিয়ে বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসবে।
পূর্ববর্তী নির্বাচনের সহিংসতার প্রসঙ্গ তুলে শাহ বলেন, অতীতে বহু মানুষ আহত হয়েছিলেন, তবে এবার ভোট হয়েছে নির্ভয়ে। তাঁর মতে, এটি পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত। একইসঙ্গে তিনি জানান, মানুষের সমর্থন এবার ভোটকেন্দ্রে পৌঁছেছে, যা ফলাফলে বড় ভূমিকা নেবে।
বিজেপি ক্ষমতায় এলে মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, সেই প্রশ্নে শাহ বলেন, বাংলায় জন্মানো ও বাংলা মাধ্যমে শিক্ষিত একজন বাঙালিই মুখ্যমন্ত্রী হবেন। নারী নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, বিজেপি সরকার এলে মহিলারা যে কোনও সময় নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবেন।
ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও ‘সিন্ডিকেট রাজ’ বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা চালু করা, আলু, আম ও পানের জন্য গবেষণা কেন্দ্র গড়ে তোলার কথাও উল্লেখ করেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, সমস্ত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি দেওয়া হবে।
অনুপ্রবেশ ইস্যুতেও সরব হয়ে শাহ দাবি করেন, পরিবর্তন মানেই রাজ্যকে অনুপ্রবেশমুক্ত করা এবং প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করা। দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে তিনি ভোটারদের নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান এবং শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
শেষে তিনি বলেন, পূর্ব ভারতের উন্নয়নের জন্য বাংলায় বিজেপি সরকারের প্রয়োজন এবং বর্তমান পরিস্থিতি দেখে তিনি ‘সুনামি’র মতো জনসমর্থনের ইঙ্গিত পাচ্ছেন।

About Author

Advertisement