কলকাতা: কলকাতায় বুদ্ধিজীবী সমাজের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় বাংলার বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেন কেন্দ্রীয় কয়লা ও খনি মন্ত্রী জি কিষাণ রেড্ডি। বিশিষ্ট নাগরিক, শিক্ষাবিদ, পেশাজীবী ও জনমত গঠনে ভূমিকা রাখা ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই সভায় বাংলার পুনর্জাগরণের আহ্বান জানানো হয়।
সভায় পদ্মশ্রীপ্রাপ্ত নারায়ণ চক্রবর্তী, জিষ্ণু বসুসহ বুদ্ধিজীবী সমাজের একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের অংশগ্রহণ আলোচনার গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।
মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে জানান, তিনি কোনও রাজনৈতিক পরিচয়ে নয়, একজন উদ্বিগ্ন নাগরিক হিসেবে উপস্থিত হয়েছেন। তিনি বলেন, বাংলার আরও উন্নত ভবিষ্যৎ প্রাপ্য এবং সেই লক্ষ্যেই সকলকে একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে। তাঁর এই বক্তব্য সভার মূল সুরকে রাজনীতির গণ্ডি ছাড়িয়ে সামাজিক দায়িত্ববোধের দিকে নিয়ে যায়।
তিনি সতর্ক করে বলেন, রাজ্যের জনসংখ্যাগত পরিবর্তন এখন স্পষ্ট এবং তা উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। এর ফলে সামাজিক কাঠামো ও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব পড়ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বাংলার সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যগত পরিচয় রক্ষার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, এই পরিচয়ই রাজ্যের মূল ভিত্তি।
বর্তমান শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, তোষণনীতি ও আপসকামী মনোভাব উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে এবং জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ণ করছে। এই পরিস্থিতিকে তিনি একটি নির্ণায়ক সময় বলে অভিহিত করে নাগরিকদের, বিশেষত শহুরে শিক্ষিত সমাজকে, সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান।
সভায় বাংলার অতীত গৌরব ও বর্তমান চ্যালেঞ্জের মধ্যে তীব্র বৈপরীত্য তুলে ধরা হয়। একসময়ের শিক্ষা, শিল্প ও সংস্কৃতির অগ্রগণ্য কেন্দ্র আজ নানা সমস্যার সম্মুখীন—এই বাস্তবতা স্বীকার করে পরিবর্তনের জন্য সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর জোর দেওয়া হয়।
শহুরে ভোটারদের গুরুত্ব বিশেষভাবে তুলে ধরে তাঁদের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। আলোচনায় বাংলার পুনরুজ্জীবনের লক্ষ্যে শিক্ষা, শিল্প, সুশাসন ও সাংস্কৃতিক আত্মবিশ্বাস পুনর্গঠনের রূপরেখা উপস্থাপন করা হয়।
সভা শেষে এক ঐক্যবদ্ধ বার্তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে—বাংলা আর পিছিয়ে পড়ার সুযোগ নিতে পারে না। এখনই সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার, সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসার এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলা গড়ে তোলার।
বাংলাকে রক্ষা করার এই আহ্বানই ছিল সভার মূল বার্তা।










