বহিরাগতদের দিয়ে ভোট লুটের চক্রান্তের আশঙ্কা মমতার

FB_IMG_1776000889457

বুথভিত্তিক সংগঠন চাঙ্গা করার নির্দেশ

তুষার পাটোয়ারী

রবিবাসরীয় নির্বাচনী জনসভায় ওন্দা থেকে দলীয় সংগঠনকে চাঙ্গা করতে বার্তা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২১ সালের কথা মনে করিয়ে বাড়তি সতর্কতা নিয়ে তৃণমূলস্তরে নেমে ভোট লড়াইয়ে টনিক দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তাঁর কথায়, “ভুল কোথায় হয়েছে, সেটা বুঝে এবার ঘুরে দাঁড়াতে হবে। রবিবার ওন্দার স্টেডিয়ামে প্রচারে গিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো স্মরণ করিয়ে দেন, “আগেরবার আমরা জিতিনি। তাই এবার একটুও ঢিলেমি চলবে না।” মঞ্চে উঠেই গতবারের নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ওন্দা ও ছাতনা এলাকায় আগের বার কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ার কারণ খুঁজে বের করতেই হবে।” তাঁর কথায়, “ভুল কোথায় হয়েছে, সেটা বুঝে এবার ঘুরে দাঁড়াতে হবে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলতে হবে।” বুথভিত্তিক সংগঠন চাঙ্গা করার উপরেও বাড়তি জোর দেন তিনি। প্রসঙ্গত, গত বিধানসভা নির্বাচনে বাঁকুড়ার ১২ টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ৮ টিতেই পদ্মফুল ফুটিয়েছিল বিজেপি। যার মধ্যে বাঁকুড়ার ওন্দা ও ছাতনা এই দুটি আসনও ছিল। গতবার ওন্দা বিধানসভায় তৃণমূলকে পিছনে ফেলে ১১ হাজার ৫৫১ ভোটে জয়ী হয়েছিলেন বিজেপির অমরনাথ সখা। ছাতনায় ৭ হাজার ১৬৪ ভোটে জয়লাভ করেছিলেন পদ্মশিবিরের সত্যনারায়ণ মুখোপাধ্যায়। এদিন ওন্দায় দাঁড়িয়ে মূলত গতবারের হারানো জমিকে পুনরুদ্ধারের জন্যই বাড়তি সতর্কতা দিলেন তৃণমূল নেত্রী।ওন্দার সভা থেকে উন্নয়নের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। রাস্তা, পানীয় জল ও স্বাস্থ্য পরিষেবা-সহ একাধিক প্রকল্পের উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, “কাজের সুফল মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই কর্মীদের প্রধান দায়িত্ব।” বিরোধী শিবিরকে কটাক্ষ করে মমতার মন্তব্য, “শুধুমাত্র প্রতিশ্রুতি দিলেই হয় না। মানুষের পাশে থেকে কাজ করলেই আস্থা তৈরি হয়।সভা ঘিরে রাজনৈতিক তাপমাত্রা যে বাড়ছে, তার ইঙ্গিত মিলেছে মাঠের ভিড়েও। ওন্দা ও ছাতনা, এই দুই এলাকাতেই এবার ভোটের অঙ্ক বেশ জটিল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। আগের ব্যর্থতার প্রসঙ্গ টেনে কর্মীদের সতর্ক করার পাশাপাশি ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার অভিযোগ তুলে প্রশাসনিক তৎপরতার বার্তাও দিতে চাইলেন রাজ্যের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। স্থানীয় নেতৃত্বের একাংশের কথায়, ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে বাড়ি বাড়ি প্রচারের গতি। বাদ পড়া ভোটারদের নাম পুনরায় তালিকাভুক্ত করা ও বুথভিত্তিক সংগঠন মজবুত করাকেই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন দলীয় নেতৃত্ব। এছাড়াও খণ্ডঘোষের ভোট প্রচারের মঞ্চ থেকে ভোটমুখী বাংলায় বিজেপির বিরুদ্ধে বড়সড় ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর আশঙ্কা, রবিবার মধ্যরাত থেকেই শুরু হবে ‘অপারেশন’। খণ্ডঘোষের ভোট প্রচারের মঞ্চ থেকে আশঙ্কার কথা শোনান। তবে তা সত্ত্বেও দলীয় কর্মী-সমর্থক ও প্রার্থীদের প্রচারে আরও জোর দেওয়ার কথা বললেন তিনি। মমতা বলেন, “ভোটের মেশিন খুব সাবধান। এদের প্ল্যান স্লো ভোটিং। স্লো কাউন্টিং। প্রথমে দেখাবে বিজেপি জিতছে। অনেককে গ্রেপ্তার করার চেষ্টা করছে। আজ মধ্যরাত থেকে অপারেশন শুরু হবে। খবর আমরাও পাই। টিভিতে যদি দেখায় ওর জিতছে, মিথ্যে বলছে।” জয়ের বিষয়ে ‘আত্মবিশ্বাসী’ মমতা আরও বলেন, “আমরাই জিতব। কোনও ক্ষমতা নেই, আমাদের হারাবে। আমরাই জিতব।” এর আগেও একাধিকবার ইভিএম কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মমতা। বহিরাগতদের দিয়ে ভোট লুটের চক্রান্তের আশঙ্কাও করেছেন তিনি। সম্প্রতি বিভিন্ন ভোটপ্রচার মঞ্চ থেকে এ নিয়ে জনগণকে সতর্ক করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ভোট কিনতে বিজেপি টাকা বিলি করছে। কাউকে অ্যাকাউন্ট নম্বর দিতেও বারণ করেন তিনি। মমতার কথায়, “অ্যাকাউন্ট নম্বর দিলে যেটুকু টাকা আছে তুলে নেবে। আর কালো টাকা ঢুকিয়ে দেবে। এরপর ইডি, সিবিআই পাঠিয়ে দেবে। বাইরে অনেক শত্রু ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমার নাম করে বললেও শুনবেন না।” বলে রাখা ভালো, রবিবার মোট ৩টি জনসভা করেন মমতা। প্রায় প্রতিটি সভামঞ্চ থেকে ভোটারদের সতর্ক করেছেন তিনি।

About Author

Advertisement