টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে আর্জেন্টিনা
নেত্র বিক্রম বিমলি
লিওনেল মেসির দুর্দান্ত ও অনুপ্রেরণাদায়ক পারফরম্যান্সের ওপর ভর করে, এক গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও আর্জেন্টিনা এক অসাধারণ প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে ইংল্যান্ডকে পরাজিত করেছে। এই রোমাঞ্চকর জয়ের মধ্য দিয়ে আর্জেন্টিনা ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করেছে।
তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও টানটান উত্তেজনার এই সেমিফাইনাল ম্যাচে আর্জেন্টিনা ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে পরাজিত করেছে। এই জয়ের ফলে আর্জেন্টিনা টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে পৌঁছেছে, যেখানে শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে আগামী রবিবার তারা স্পেনের মুখোমুখি হবে।
ম্যাচের প্রথমার্ধ ছিল অত্যন্ত আক্রমণাত্মক
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যায়। শক্তিশালী রক্ষণভাগ ও আক্রমণাত্মক খেলার কারণে প্রথমার্ধে মোট ১৯টি ফাউল হয়—যার মধ্যে আর্জেন্টিনা ১২টি এবং ইংল্যান্ড ৭টি ফাউল করে। প্রথমার্ধে রেফারিকে উভয় দলের একজন করে খেলোয়াড়কে হলুদ কার্ড দেখাতে হয়েছিল। প্রথমার্ধটি গোলশূন্যভাবে শেষ হয়।
গর্ডনের গোল এবং ফার্নান্দেজের পাল্টা আক্রমণ
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ইংল্যান্ড ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে নিয়ে নেয়। ৫৫তম মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডন এক দুর্দান্ত গোল করে ইংল্যান্ডকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।
এক গোল পিছিয়ে পড়ার পর আর্জেন্টিনা ম্যাচে ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে লড়াই চালায়। অবশেষে ৮৫তম মিনিটে অধিনায়ক লিওনেল মেসির জাদুকরী এক পাস থেকে গোল করে মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ ম্যাচের স্কোরলাইন ১-১-এ সমতায় নিয়ে আসেন।
শেষ মুহূর্তের উত্তেজনা এবং মার্টিনেজের জয়সূচক গোল
যখন মনে হচ্ছিল ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়াবে, ঠিক তখনই স্টপেজ টাইমের দ্বিতীয় মিনিটে (৯০+২ মিনিট) মেসির আরও একটি নিখুঁত পাস থেকে গোল করে আর্জেন্টিনাকে ২-১ এর অপ্রতিরোধ্য লিড এনে দেন লাউতারো মার্টিনেজ।
মার্টিনেজের এই গোলটি ৬০ বছর পর বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার ইংল্যান্ডের স্বপ্ন চূর্ণ করে দিয়েছে। এখন লিওনেল মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জিতে ইতিহাস গড়ার থেকে মাত্র এক ধাপ দূরে রয়েছে।










