প্রথম প্রান্তিকে নিট মুনাফা ১৭.৬ শতাংশ কমেছে
কলকাতা: লিখন-সামগ্রী ও স্টেশনারি খাতের সুপরিচিত ভারতীয় ব্র্যান্ড লিঙ্ক লিমিটেড (পূর্বনাম লিঙ্ক পেন অ্যান্ড প্লাস্টিক লিমিটেড) চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের আর্থিক ফলাফল ঘোষণা করেছে।
৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় অনুমোদিত নিরীক্ষাবিহীন আর্থিক ফলাফল অনুযায়ী, প্রধান কাঁচামালের (পলিমার) মূল্যবৃদ্ধি এবং রপ্তানি হ্রাসের কারণে কোম্পানিটির মুনাফা উল্লেখযোগ্য চাপের মুখে পড়েছে।
পর্যালোচনাধীন সময়ে মোট আয়ে সামান্য উন্নতি সত্ত্বেও, পরিচালন মুনাফা(ইবিআইটিডিএ)
এবং নিট মুনাফায় দুই অঙ্কের হারে পতন পরিলক্ষিত হয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ১৩,৯৪০ লক্ষ টাকায়, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের ১৩,৮১৯ লক্ষ টাকার তুলনায় ০.৯ শতাংশ বেশি।
পর্যালোচনাকালীন সময়ে ইবিআইটিডিএ ১২.৬ শতাংশ কমে ১,২৫৪ লক্ষ টাকায় নেমে এসেছে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ১,৪৩৫ লক্ষ টাকা। এর ফলে, ইবিআইটিডিএ মার্জিন ১০.৪ শতাংশ থেকে কমে ৯.০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। কর-পরবর্তী মুনাফা (পিএটি) ১৭.৬ শতাংশ কমে ৫৮১ লক্ষ টাকায় নেমে এসেছে, যা আগের বছরের প্রথম প্রান্তিকে ছিল ৭০৫ লক্ষ টাকা। মুনাফা কমে যাওয়ার ফলে শেয়ার প্রতি আয়ও (ইপিএস) ১.১৮ টাকা থেকে কমে ০.৯৮ টাকায় দাঁড়িয়েছে। কোম্পানির নিট ঋণের পরিমাণ মার্চ ২০২৬-এর ৬৮৬ লক্ষ টাকা থেকে বেড়ে জুন ২০২৬ নাগাদ ১,১৯৪ লক্ষ টাকায় পৌঁছেছে। আর্থিক ফলাফল প্রসঙ্গে ‘লিঙ্ক লিমিটেড’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব দীপক জালান জানান যে, অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটার ফলে প্রধান কাঁচামাল ‘পলিমার’-এর দাম বেড়ে যাওয়ায় মুনাফার হারে (মার্জিন) চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে কর্পোরেট বিক্রয় ১৪ শতাংশ এবং রপ্তানি ৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। তবে সাধারণ বাণিজ্য (জেনারেল ট্রেড) খাতে ৮ শতাংশ এবং ই-কমার্স খাতে ৩২ শতাংশ জোরালো প্রবৃদ্ধি সামগ্রিক আয় ধরে রাখতে সহায়তা করেছে। বাজারের প্রতিযোগিতার কথা বিবেচনা করে, কোম্পানিটি বর্ধিত ব্যয়ের বোঝা অবিলম্বে গ্রাহকদের ওপর চাপানোর পরিবর্তে আগামী প্রান্তিকগুলোতে ধাপে ধাপে মূল্য সমন্বয়ের কৌশল গ্রহণ করেছে।
কোম্পানির আন্তর্জাতিক প্রবৃদ্ধির কৌশল পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে চলেছে। মিতসুবিশি পেন্সিল কোম্পানির সাথে যৌথ উদ্যোগে গঠিত প্রতিষ্ঠান ‘ইউনি লিংক’-এর মোট আয়ের অর্ধেকেরও বেশি আসে রপ্তানি খাত থেকে। দক্ষিণ কোরিয়ার মরিস-এর সহযোগিতায় পশ্চিমবঙ্গে যে নতুন কারখানাটি স্থাপন করা হচ্ছে, তা ২০২৭ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকের মধ্যে কার্যক্রম শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এছাড়া, কেনিয়া ও তুরস্কের মতো সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং ‘লিঙ্ক অন’-এর ক্ষেত্রেও ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশ্বজুড়ে ৪০টিরও বেশি দেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী ‘লিঙ্ক লিমিটেড’ আশ্বস্ত করেছে যে, স্বল্পমেয়াদী ব্যয়ের চাপ সত্ত্বেও সুশৃঙ্খল ব্যয় ব্যবস্থাপনা এবং একটি শক্তিশালী বিতরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী প্রবৃদ্ধির জন্য একটি বলিষ্ঠ ভিত্তি গড়ে তোলা হচ্ছে।








